Lok Sabha Speaker no-confidence motion, OM Birla | লোকসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থার চ্যালেঞ্জ, কংগ্রেস-ডিএমকে-সমাজবাদী পার্টির যৌথ নোটিসে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ, দূরে তৃণমূল

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : সংসদের রাজনীতিতে ফের বড়সড় টানাপোড়েন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে আনুষ্ঠানিক নোটিস জমা দিল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার দুপুরে লোকসভার সচিবালয়ে এই নোটিস জমা দেন কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক কে সুরেশ (K. Suresh)। সূত্রের খবর, নোটিসটি প্রাথমিক যাচাইয়ের জন্য লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপলকুমার সিংহের (Utpal Kumar Singh) কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার নিজেই। এই পদক্ষেপ ঘিরে সংসদের অন্দরমহলে যেমন চর্চা শুরু হয়েছে, তেমনই বিরোধী ঐক্য ও তার সীমাবদ্ধতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিসে মোট ১২০ জন বিরোধী সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে। কংগ্রেসের পাশাপাশি ডিএমকে (DMK) এবং সমাজবাদী পার্টির (Samajwadi Party) সাংসদেরা এই নোটিসে সই করেছেন। তবে তৃণমূল কংগ্রেসের (Trinamool Congress) কোনও সাংসদ তাতে স্বাক্ষর করেননি। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, তৃণমূল যে এই প্রস্তাবের নোটিসে সই করবে না, সেই ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল।

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থার চ্যালেঞ্জ…। ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার দুপুরেই লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, কংগ্রেস যে অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চাইছে, তাতে নীতিগত ভাবে তৃণমূলের আপত্তি নেই। কিন্তু তার আগে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA)-ভুক্ত সমস্ত দলকে নিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিষেকের বক্তব্য, সেই প্রক্রিয়া মানা হলেই তৃণমূল এই প্রস্তাবে সই করবে। ফলে বিরোধী শিবিরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব আবারও প্রকাশ্যে এল বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। এই অনাস্থা প্রস্তাবের পেছনে বিরোধীদের মূল অভিযোগ সংসদের সাম্প্রতিক কার্যপ্রণালি। বিরোধী শিবিরের দাবি, লোকসভার বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদজ্ঞাপন পর্বে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) -সহ একাধিক বিরোধী সাংসদকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আট জন সাংসদকে নিলম্বিত বা সাসপেন্ড করা হয়েছে, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপন্থী বলে অভিযোগ তুলেছে তারা। বিরোধীদের মতে, স্পিকার নিরপেক্ষতার যে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করার কথা, সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। সেই কারণেই এই অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত।

আরও পড়ুন : Narendra Modi on budget | যুবশক্তির স্বপ্নের বাজেটেই বিকশিত ভারতের রোডম্যাপ, কৃষি-শিক্ষা-নারী উন্নয়নে নতুন পথ দেখালেন নরেন্দ্র মোদী

লোকসভার সচিবালয়ের এক সূত্র জানিয়েছে, নোটিসটি খতিয়ে দেখে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। সংসদীয় ইতিহাস বলছে, অতীতেও লোকসভার স্পিকারকে অপসারণের চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই তা সফল হয়নি। তবু বিরোধীদের মতে, এই উদ্যোগ প্রতীকী হলেও সংসদের ভিতরে ও বাইরে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দেবে।অন্য দিকে, শাসক শিবির এই উদ্যোগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে। বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র (Sambit Patra) কটাক্ষ করে বলেন, ‘যাদের নিজেদের বিবেক অপসারিত হয়েছে, তারাই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদকে অপসারণ করতে চাইছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমার মনে হয়, গোটা দেশের এ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে রাজনীতি থেকেই অপসারিত করে দেওয়া উচিত।’ বিজেপির বক্তব্য, স্পিকার তাঁর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিরোধীদের এই পদক্ষেপ আসলে রাজনৈতিক হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

সংবিধানের ৯৪(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী লোকসভার স্পিকারকে পদ থেকে সরানো যেতে পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন লোকসভার মোট সাংসদদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে একটি প্রস্তাব পাশ হওয়া। সেই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হল লিখিত নোটিস জমা দেওয়া। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, এই নোটিস প্রস্তাব উত্থাপনের অন্তত ১৪ দিন আগে দিতে হয়। নোটিসে ন্যূনতম দু’জন সাংসদের স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক, যদিও সর্বোচ্চ স্বাক্ষরের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। বিরোধীরা সেই ন্যূনতম শর্ত তো পূরণ করেছেই, বরং ১২০ জন সাংসদের স্বাক্ষর দিয়ে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে। নোটিস গৃহীত হলে এবং সময়সীমা পেরিয়ে গেলে আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট দিন ধার্য করা হয়। সংসদীয় নিয়ম অনুসারে, প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর থেকে তা বিবেচনাধীন থাকা পর্যন্ত স্পিকার সাধারণত অধিবেশন পরিচালনা করেন না। সেই সময় ডেপুটি স্পিকার সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতির (President of India) মনোনীত কোনও সাংসদ নিম্নকক্ষের দায়িত্ব নেন। এই বিধান স্পিকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্যই তৈরি। উল্লেখ্য, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Om Birla) বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের প্রতিফলন। এক দিকে বিরোধীদের অভিযোগ ও ঐক্যের চেষ্টা, অন্য দিকে শাসক শিবিরের পাল্টা আক্রমণ, এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনে সংসদের অচলাবস্থাকে আরও গভীর করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

ছবি : সংগৃহীত 
আরও পড়ুন : Indian Economy, Insurance News | বিমা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী মোড়: ১০০ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব লোকসভায়, সরকার- বিরোধী তুমুল তরজা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন