সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কুর্নুল, (২১ অক্টোবরের আপডেট খবর) ২৬ অক্টোবর ২০২৫ : অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে (Kurnool) ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিজিওনাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (RFSL) -এর রিপোর্টে নিশ্চিত হয়েছে যে, ঘটনায় দোষী বাইক আরোহী শিবশঙ্কর (Shivashankar) দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করেছিলেন। তাঁর ভিসেরার নমুনায় অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে মদ্যপ অবস্থায় তিনি বাইক চালাচ্ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার দিন শিবশঙ্কর ও তাঁর বন্ধু ইয়েরিস্বামী (Yeriswamy) মদ্যপ অবস্থায় কুর্নুলের পেদ্দাতেকুর (Peddadtekur) গ্রামের রাস্তায় যাচ্ছিলেন। বাইকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে ধাক্কা খায়, ঘটনাস্থলেই শিবশঙ্করের মৃত্যু হয়। পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ওই দুর্ঘটনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই একই রুটে চলা কাবেরী ট্রাভেলসের (Kaveri Travels) একটি যাত্রীবোঝাই বাস দ্রুতগতিতে দুর্ঘটনাস্থলে এসে পড়ে থাকা বাইকটিকে ধাক্কা দেয়, যার জেরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, তাতে ২০ জনের প্রাণ যায়। কুর্নুলের এসপি বিক্রান্ত পাতিল (Vikrant Patil) সাংবাদিকদের বলেন, “ফরেনসিক পরীক্ষায় স্পষ্ট হয়েছে, বাইকার মদ্যপ ছিলেন। দুর্ঘটনা কোনো মেকানিক্যাল ত্রুটির কারণে নয়, মানবিক গাফিলতির ফল।”
ইয়েরিস্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ধারা ২৮১, ১২৫(এ), এবং ১০৬(১)-এর অধীনে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে। তিনি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তারা দু’জনেই সেদিন সন্ধ্যায় মদ্যপান করেছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল দিয়ে যাওয়া অন্য দু’টি বাস সময়মতো বাইকটিকে এড়িয়ে যায়, কিন্তু কাবেরী ট্রাভেলস বাসটি অতিরিক্ত গতিতে থাকায় ধাক্কা খায়। সেই ধাক্কাতেই বাসের ফুয়েল ট্যাঙ্কে আগুন লেগে পুরো গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে যাত্রী রমেশ (Ramesh) -এর অভিযোগের ভিত্তিতে কাবেরী ট্রাভেলসের চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তবে নতুন ফরেনসিক প্রমাণে ঘটনাটির মূল কারণ হিসেবে বাইকারের মদ্যপ অবস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবগারি বিভাগের (Excise Department) তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার আগে শিবশঙ্কর স্থানীয় লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান রেনুকা ইয়েল্লাম্মা ওয়াইনস (Renuka Yellamma Wines) থেকে দু’বার মদ কিনেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ৮টা ২৫ মিনিটে দোকানে যান। দোকানটি জাতীয় মহাসড়ক থেকে ২৪০ মিটার দূরে অবস্থিত এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি সীমার মধ্যেই ছিল।
আবগারি কমিশনার শ্রীধর (Sridhar) বলেন, “মদ বিক্রয়টি সম্পূর্ণ বৈধ ছিল। বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছড়িয়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার বৈধ বিক্রয় ও সেবন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।” একইসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের মরদেহ শনাক্তকরণের কাজও শেষ হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে ১৭ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা হয়েছে এবং রবিবার সেই মরদেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কুর্নুল জেলা কালেক্টর এ সিরি (A. Siri) নিজে উপস্থিত থেকে মৃতদেহ হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারকি করেন। তিনি জানান, “প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ডিএনএ, তদন্ত এবং এফআইআর রিপোর্টের কপি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের নিজ নিজ গ্রামে মরদেহ স্থানান্তরের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও ফ্রিজার বাক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে।” একটি বিশেষ উদাহরণে, বিহারের (Bihar) বাসিন্দা অমৃত কুমার (Amrit Kumar) -এর পরিবারের অনুরোধে তাঁর শেষকৃত্য কুর্নুলেই সম্পন্ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, চিত্তুর (Chittoor) -এর গ্রানাইট ব্যবসায়ী পি ত্রিমূর্তি (P. Trimurti) -এর পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, বাসের অজ্ঞাতপরিচয় এক দেহটি তাঁর হতে পারে। এসপি বিক্রান্ত পাতিল জানান, “আমরা তাঁদের ডিএনএ নমুনা নিয়েছি এবং মঙ্গলাগিরির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠিয়েছি। রিপোর্ট মিললে সোমবারই মৃতদেহ হস্তান্তর করা হবে।” প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্তা বলেন, এই দুর্ঘটনা রাজ্যের নিরাপত্তা নীতির জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে। মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত গতির কারণে যে কত বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে, কুর্নুলের এই দুর্ঘটনা তার প্রমাণ।
ছবি : সংগৃহীত




