Jwala Gutta breast milk donation | জ্বালা গুট্টা স্তন্যদুগ্ধ দান, অনন্য উদ্যোগ ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকার

SHARE:

শেষ পর্যন্ত আমির খানের সহযোগিতা ও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় জ্বালা মাতৃত্বের সুখ পান। বিষ্ণুর মন্তব্য, “দুই থেকে তিনটি আইভিএফ সাইকেলের পর জ্বালা গর্ভবতী হয়। আমির স্যার না থাকলে আমরা আমাদের মেয়েকে পেতাম না। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” তবে জ্বালা তাঁদের মেয়ের নামকরণে আমিরকে যুক্ত করেননি।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের ব্যাডমিন্টন তারকা জ্বালা গুট্টা (Jwala Gutta) ফের আলোচনায়। তবে এবার তাঁর র‌্যাকেটের জন্য নয়, একটি অভিনব মানবিক উদ্যোগের কারণে। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে স্তন্যদুগ্ধ দান করছেন। ইতিমধ্যেই তিনি প্রায় ৩০ লিটার দুধ দান করেছেন একটি সরকারি হাসপাতালে বলে সূত্রের খবর। এই পদক্ষেপে অসংখ্য পরিবার যেমন আশার আলো দেখছে, তেমনই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন জ্বালা।

গত এপ্রিলে জ্বালা এবং তাঁর স্বামী অভিনেতা-প্রযোজক বিষ্ণু বিশাল (Vishnu Vishal) তাঁদের কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। সেই সময় থেকেই তিনি এই পদক্ষেপের কথা ভেবেছিলেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জ্বালা লিখেছেন, “মায়ের দুধ জীবন বাঁচায়। প্রি-ম্যাচিয়োর (Pre-Mature) এবং অসুস্থ শিশুদের জন্য দুধ দান করলে তাদের জীবন বদলে যেতে পারে। যাঁরা দুধ দান করতে সক্ষম, তাঁরা কোনও কোনও পরিবারের কাছে নায়ক হয়ে উঠতে পারেন। এই বিষয়ে আরও জানুন, সচেতনতা বাড়ান এবং মিল্ক ব্যাংকের পাশে দাঁড়ান।” প্রসঙ্গত, প্রসূতি মায়েদের স্তনে অনেক সময় দুধ না আসার নবজাতকরা বিপাকে পড়ে। আবার অনেক সময় জন্মের পর মা মারা গেলে শিশু অসহায় হয়ে যায়। জ্বালা সেই সমস্ত মা-হীন শিশু কিংবা প্রিম্যাচিওর বেবিদের জন্য স্তন্যদুগ্ধ দান করছেন। চার মাস ধরে নিয়মিতভাবে এই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি বলে সূত্রের খবর।

সমাজের বহু মানুষ মনে করছেন, জ্বালার এই উদ্যোগে তাঁর নিজের মাতৃত্ব অভিজ্ঞতারই বড় ভূমিকা আছে। দীর্ঘ সময় ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা সত্ত্বেও জ্বালা এবং বিষ্ণু সমস্যায় পড়েছিলেন। একাধিক আইভিএফ (IVF) চেষ্টার পর অবশেষে তাঁদের পরিবার পূর্ণ হয়। বিষ্ণু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “আমি আর জ্বালা প্রায় দু’বছর ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। ওর বয়স ৪১ বছর, ফলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছিলাম। পাঁচ-ছ’টি ব্যর্থ আইভিএফ সাইকেলের পর জ্বালা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিল।” সেই কঠিন সময়ে এগিয়ে আসেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান (Aamir Khan)। বিষ্ণুর কথায়, “আমির স্যার বলেছিলেন সব ফেলে মুম্বই চলে আসতে। তিনি আমাদের একজন নামকরা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। প্রায় ১০ মাস ধরে তিনি নিজের বাড়িতে পরিবারের মতো করে জ্বালাকে রেখেছিলেন।”

উল্লেখ্য, শেষ পর্যন্ত আমির খানের সহযোগিতা ও চিকিৎসকদের প্রচেষ্টায় জ্বালা মাতৃত্বের সুখ পান। বিষ্ণুর মন্তব্য, “দুই থেকে তিনটি আইভিএফ সাইকেলের পর জ্বালা গর্ভবতী হয়। আমির স্যার না থাকলে আমরা আমাদের মেয়েকে পেতাম না। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।” তবে জ্বালা তাঁদের মেয়ের নামকরণে আমিরকে যুক্ত করেননি। বিষ্ণু বলেন, “আমি অনুরোধ করেছিলাম আমির স্যারকে, সন্তানের নাম না রাখতে। সেই কারণেই আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে যখন মেয়েকে নিয়ে কথা উঠল, তখন আবেগ সামলাতে না পেরে জ্বালা কেঁদে ফেলেছিল।”

বর্তমানে সমাজের বিভিন্ন স্তরে জ্বালার এই দুধ দান উদ্যোগকে মানবিকতা ও সচেতনতার এক বড় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নবজাতকের জন্য মায়ের দুধ সবচেয়ে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (WHO) নবজাতকের প্রথম ছয় মাস শুধুই মায়ের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়। জ্বালা তাঁর পদক্ষেপে একদিকে যেমন অসহায় শিশুদের জীবন বাঁচাচ্ছেন, অন্যদিকে সমাজে স্তন্যদুগ্ধ দানের গুরুত্ব নিয়েও সচেতনতা বাড়াচ্ছেন।সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই লিখেছেন, “জ্বালা গুট্টা শুধু ব্যাডমিন্টন কোর্টেই নায়িকা নন, জীবনের কোর্টেও তিনি সত্যিকারের নায়িকা।” তাঁর এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে জ্বালা দেখিয়ে দিলেন, খেলার ময়দান ছাড়াও সমাজের জন্য কীভাবে একজন ক্রীড়াবিদ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারেন। এখন দেখার বিষয়, তাঁর এই বার্তায় অনুপ্রাণিত হয়ে আরও কত জন মা স্তন্যদুগ্ধ দানে এগিয়ে আসেন।

ছবি: সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Aamir Khan diet plan | ‘দঙ্গল’-এ জন্য ২৫ কেজি ওজন কমিয়েছিলেন আমির খান, জানুন তাঁর কঠোর ডায়েট ও ফিটনেস রুটিনের গোপন রহস্য

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন