Japan earthquake | ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল জাপান, সুনামি সতর্কতা জারি করে পরে প্রত্যাহার

SHARE:

গত শুক্রবারের কম্পনের পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্দাই শহরের (Sendai) এক বাসিন্দা মিয়ুকি হোন্দা (Miyuki Honda) বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো কম্পন অনুভব করি। কিন্তু আজকের মতো জোরালো কম্পন খুব ভয় ধরিয়ে দেয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলাম।” বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ টোকিও : জাপান আবারও কেঁপে উঠল শক্তিশালী ভূমিকম্পে। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৪ মিনিটেই কয়েক সেকেন্ড ধরে তীব্র কম্পন অনুভূত হয় দেশটির উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী অঞ্চলে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.৭। মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে একাধিক প্রদেশে মানুষ আতঙ্কে ঘর-বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। কম্পনের পরপরই প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করে জাপানের আবহবিজ্ঞান সংস্থা (Japan Meteorological Agency – JMA)। যদিও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। জেএমএ (JMA) -এর তরফে জানানো হয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল আওমরি প্রিফেকচারের (Aomori Prefecture) পূর্ব উপকূল, মাটির প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। জায়গাটি জাপানের প্রধান দ্বীপ হনসু (Honshu) -এর উত্তরাংশে অবস্থিত। কম্পনের পর উত্তর-পূর্ব উপকূলবর্তী হোক্কাইডো (Hokkaido), আওমরি (Aomori), আইওয়েটে (Iwate) এবং মিয়াগি (Miyagi) প্রিফেকচারে সুনামির জেরে সমুদ্রের পানির উচ্চতা ১ মিটার পর্যন্ত উঠে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। এজন্য সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানায় প্রশাসন।

আরও পড়ুন : Election Commission Meeting | নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা–প্রশাসনিক কত প্রস্তুত? ২৫ দফতরের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিশনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কলকাতায়

আওমরির এক স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিক তাকেশি নাকামুরা (Takeshi Nakamura) বলেন, “কম্পন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা উপকূলবর্তী পরিবারগুলিকে সতর্ক করে দিয়েছিলাম। সুনামির সম্ভাবনা সর্বদাই আতঙ্ক বাড়ায়। তবে আপাতত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।” তবে ঠিক কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রশাসন জানিয়েছে, বিভিন্ন প্রিফেকচারে উদ্ধারকর্মীরা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক হয়। রেল পরিষেবাতেও কিছুটা প্রভাব পড়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই গত সোমবার ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল জাপান। সেই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল উত্তর-পূর্বাঞ্চল। সেদিনও সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সোমবারের ভূমিকম্পে প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছিলেন অন্তত ৩৪ জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এক সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প বিপদের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূকম্পবিদ হিরোশি ইয়ামামতো (Hiroshi Yamamoto) জানান, “জাপান ‘রিং অফ ফায়ার’ -এর উপর অবস্থিত হওয়ায় ভূমিকম্প এখানে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তবে একই অঞ্চলে বারবার মাঝারি থেকে শক্তিশালী মাত্রার কম্পনের পুনরাবৃত্তি ভূগর্ভস্থ চাপের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। তাই সতর্কতা আরও কঠোর করা জরুরি।”

আরও পড়ুন : Jemimah Rodrigues Smriti Mandhana | বন্ধুর কান্নায় ভেঙে পড়লেন জেমিমা, স্মৃতি মন্ধানার কঠিন সময়ে বিগ ব্যাশ ছেড়ে পাশে থাকার সিদ্ধান্ত

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে জাপান সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বছরে প্রায় ১৫০০ -এরও বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় এই দ্বীপরাষ্ট্রে। ছোট-বড় এমন হাজারও ভূমিকম্পের মাঝেই দেশবাসী স্বাভাবিক জীবন কাটালেও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আতঙ্ক রয়ে যায় সবসময়। ২০১১ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্প ও সুনামির স্মৃতি এখনও তাজা। সেই বছর ৯ মাত্রার ভূমিকম্পের জেরে প্রায় ১৮ হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের মতো ঐতিহাসিক দুর্ঘটনাও ঘটেছিল তখন। সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই জাপান সরকার প্রতিটি ভূমিকম্পেই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে।

গত শুক্রবারের কম্পনের পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আবারও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সেন্দাই শহরের (Sendai) এক বাসিন্দা মিয়ুকি হোন্দা (Miyuki Honda) বলেন, “প্রায় প্রতিদিনই ছোটখাটো কম্পন অনুভব করি। কিন্তু আজকের মতো জোরালো কম্পন খুব ভয় ধরিয়ে দেয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলাম।” বর্তমানে প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। আবহবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টায় ছোটখাটো আফটারশক অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে নাগরিকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এক সপ্তাহে দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্প-জাপানের ভূতাত্ত্বিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূগর্ভস্থ চাপ বাড়তে থাকলে বড় ধরনের ভূমিকম্পের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে জাপানের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও দুর্যোগ মোকাবিলা কাঠামো বিপর্যয় ঠেকাতে বড় ভূমিকা রাখছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit–Kohli shine with match-winning knocks, Road to 2027 ODI World Cup | রোহিত-কোহলির দুরন্ত ইনিংস, ২০২৭ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন