সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ডাবলিন (Dublin)-এর মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য, সমুদ্রের ধারে সবুজ উপত্যকা, সিনেম্যাটিক ল্যান্ডস্কেপ আর ইতিহাসসমৃদ্ধ লোকেশনের জন্য আয়ারল্যান্ড (Ireland) বরাবরই পৃথিবীর ভ্রমণপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। ‘গেম অব থ্রোনস’ (Game of Thrones) থেকে শুরু করে ‘ব্রেভহার্ট’-এর (Braveheart) মতো বিশ্বখ্যাত সিনেমা এখানে শুট হয়েছে। এবার ভারতীয়দের জন্যও খুলে গেল সেখানে দীর্ঘমেয়াদি বসবাস ও কাজ করার সুযোগ। মাত্র প্রায় ৫২ হাজার টাকায় (৫০০ ইউরো ফি) আয়ারল্যান্ডে স্থায়ী বসবাস বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি (Permanent Residency) পাওয়া সম্ভব।

আয়ারল্যান্ড সরকারের ‘লং-টার্ম রেসিডেন্সি’ বা পিআর (PR) প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইউরোপীয় ইকোনমিক এরিয়ার বাইরে থাকা নাগরিকরা আবেদন করতে পারবেন। যারা একদিন ইউরোপে স্থায়ীভাবে থাকতে, কাজ করতে বা পড়াশোনা করার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য এই সুযোগ হতে পারে বড় দরজা।আয়ারল্যান্ডের পিআর (PR) মূলত নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রথম ধাপ। এজন্য আবেদনকারীকে অন্তত পাঁচ বছর সেখানে বৈধভাবে বসবাস ও কর্মরত থাকতে হবে। প্রথমে ক্রিটিক্যাল স্কিল এমপ্লয়মেন্ট পারমিট (Critical Skill Employment Permit) পাওয়া গেলে দুই বছর সেখানে কাজ করা সম্ভব হবে। এরপর আবেদনকারী স্ট্যাম্প ৪ ভিসা (Stamp 4 Visa)-এর জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা আরও তিন বছরের জন্য থাকার অনুমতি দেবে। পাঁচ বছরের শর্ত পূরণের পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যাবে।
Read : Lionel Messi retirement 2025 | ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মঞ্চে হয়তো শেষবার দেখা যাবে লিয়োনেল মেসিকে

যোগ্যতা হিসেবে যা যা লাগবে, তার মধ্যে রয়েছে :
>আয়ারল্যান্ডে অন্তত ৬০ মাস বা পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ।
>বৈধ এমপ্লয়মেন্ট পারমিট (Employment Permit), যেমন জেনারেল এমপ্লয়মেন্ট পারমিট (General Employment Permit), যার মাধ্যমে অধিকাংশ সময় কাজ করা হয়েছে।
>আবেদন করার সময় বৈধভাবে চাকরিতে যুক্ত থাকা।
>কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড না থাকা ও চরিত্রে সৎ হওয়া।
>আর্থিকভাবে স্থিতিশীল হওয়া এবং আগের ভিসার সব শর্ত মানা।

আবেদনের প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে সাজানো। প্রথমে যোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। এরপর লাগবে পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র, বৈধ পাসপোর্ট, বর্তমান আইরিশ রেসিডেন্স পারমিট (Irish Residence Permit) কার্ডের কপি, পূর্ববর্তী সব এমপ্লয়মেন্ট পারমিট, রেজিস্ট্রেশনের সনদপত্র ইত্যাদি। সব ডকুমেন্ট সংগ্রহের পর ইমিগ্রেশন সার্ভিস ডেলিভারিতে (Immigration Service Delivery) জমা দিতে হবে। আবেদনের ফি ৫০০ ইউরো বা প্রায় ৫১,২৫৪ টাকা, যা অনুমোদনের ২৮ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত ৬ থেকে ৮ মাস সময় নেয়। সব কিছু সঠিক থাকলে, আবেদনকারীকে লং-টার্ম রেসিডেন্সি হিসেবে ‘স্ট্যাম্প ৪ ভিসা’ প্রদান করা হবে।ভারতীয়দের জন্য এটি এক বিরল সুযোগ। কারণ ইউরোপের অন্যান্য দেশে স্থায়ী বসবাসের খরচ এবং শর্ত অনেক বেশি কঠিন।
আয়ারল্যান্ড তুলনামূলক সহজ শর্তে, কম খরচে এবং স্বল্প সময়ে সেই সুযোগ করে দিচ্ছে। যারা ভবিষ্যতে ইউরোপে পরিবারসহ থাকতে চান বা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য এই উদ্যোগ নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়ারল্যান্ডের এই পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী দক্ষ জনবল আকর্ষণের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ। তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ফিনান্স ও শিক্ষা খাতে ভারতীয়দের দক্ষতা ও পরিশ্রম আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। তাই ভারতের আবেদনকারীরা এই প্রোগ্রামে ব্যাপকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।উল্লেখ্য যে, আবেদনের সুযোগ এখনই খোলা রয়েছে। যারা ইউরোপীয় স্বপ্ন পূরণ করতে চান, তাদের জন্য আয়ারল্যান্ডের এই নতুন লং-টার্ম রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম হতে পারে জীবনের বড় মোড়।
সব ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Japan Visit | মোদীর জাপান সফর: কৌশলগত অংশীদারি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত




