IPL Brand Value | IPL -এর বাজারদর ছুঁল ১৫৮০০০ কোটি! শীর্ষে কে, বেঙ্গালুরু না মুম্বই?

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি ক্রিকেট লিগ আইপিএল (IPL)। প্রতি বছরই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড গড়ে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ। ২০২৫ সালে সেই ট্র্যাডিশন বজায় রাখল আইপিএল। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা Brand Finance-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০২৫-এ আইপিএলের বাজারদর একলাফে ১২.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৫৮০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, শুধু খেলোয়াড়দের লড়াই নয়, অর্থের খেলাতেও শীর্ষে আইপিএল।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, (IPL) আইপিএলের ব্র্যান্ড ভ্যালু নিজেই বেড়েছে ১৩.৮ শতাংশ। যা এখন ৩.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৩০০০ কোটি টাকা। Brand Finance-এর তরফে জানানো হয়েছে, ‘দর্শকসংখ্যা, বিজ্ঞাপন, স্পনসর চুক্তি এবং সম্প্রচারের চাহিদা, সব মিলিয়ে আইপিএল (IPL) এখন বিশ্বের অন্যতম প্রিমিয়াম স্পোর্টস লিগ।’ এছাড়া, আইপিএলের মূল চারটি স্পনসর প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ১৪৮৫ কোটি টাকা বেশি আয় করেছে। যা ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি। স্পনসরদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে টাটা গ্রুপ (Tata Group)। তাদের সঙ্গে আইপিএলের ২৫০০ কোটি টাকার চুক্তি ২০২৮ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, “এই চুক্তি আইপিএলের বাজারদর বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।”

এবারের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলির বাজারমূল্যেও বড়সড় উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (Royal Challengers Bangalore)। গত মরশুমে প্রথমবার ট্রফি জেতা বেঙ্গালুরুর ব্র্যান্ড ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ২৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। গত বছর তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ছিল ২২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অন্যদিকে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) ব্র্যান্ড ভ্যালু ২০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ২৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings) রয়েছে তৃতীয় স্থানে। তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ২৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে পাঞ্জাব কিংসের (Punjab Kings) ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে সর্বাধিক হারে, ৩৯.৬ শতাংশ। এবারের আইপিএল থেকে বোর্ডের রোজগারও নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (BCCI)-র আয় হয়েছে ২২,৫৬৩ কোটি টাকা। যদিও মাঝপথে এক সপ্তাহ আইপিএল বন্ধ থাকার কারণে আয় কিছুটা কমেছে। বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন, “যদি মাঝপথে এক সপ্তাহ খেলা বন্ধ না থাকত, তাহলে অন্তত আরও ১০০০ কোটি টাকা বেশি আয় হত।”

দর্শকসংখ্যার নিরিখেও নজির গড়েছে এবারের আইপিএল। জিও হটস্টার (Jio Hotstar)-এর তরফে জানানো হয়েছে, শুধু ফাইনাল ম্যাচই দেখা হয়েছে ৩১.৭ বিলিয়ন মিনিট। অর্থাৎ প্রায় ৩১৭০ কোটি মিনিট ধরে দর্শকরা বুঁদ ছিলেন আইপিএলের ফাইনালে। আইপিএল কর্মকর্তারা মনে করছেন, “এটি প্রমাণ করে যে, টেলিভিশনের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও আইপিএলের চাহিদা আকাশছোঁয়া।” ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ অভিষেক মুখার্জি (Abhishek Mukherjee) বলছেন, “আইপিএলের এই বৃদ্ধির হার দেখিয়ে দিচ্ছে, ভারতের স্পোর্টস ইকনমি কত দ্রুত এগোচ্ছে। আগামী দিনে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গণ্ডিও পেরোবে।” সবমিলিয়ে বলা যায়, আইপিএল শুধু ক্রিকেট লিগ নয়, ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ইঞ্জিন হয়ে উঠছে দ্রুত। যেখানে ক্রিকেটারদের লড়াইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে টাকার অঙ্কও।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন :History of Indian test cricket : ভারতে প্রথম টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ ও একটি গৌরবময় ইতিহাস ফিরে দেখা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন