সংবেদন শীল ★ সাশ্রয় নিউজ, নতুন দিল্লি, ১৩ অক্টোবর: দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের শুকনো, ধুলোমাখা ‘মরা’ পিচে দ্বিতীয় টেস্টের লড়াই শেষের পথে। প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) দলকে মাত্র আড়াই দিনে উড়িয়ে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া (Team India)। কিন্তু এবার ক্যারিবিয়ানরা সেই লজ্জা আর হতে দেয়নি। শাই হোপ (Shai Hope), জন ক্যাম্পবেল (John Campbell) এবং জাস্টিন গ্রিভস (Justin Greaves) -এর সাহসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ টেনে নিয়ে গেছেন পঞ্চম দিনে। যদিও মঙ্গলবার সকালে ভারতের জয় সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তবুও উঠছে বড় প্রশ্ন, আসলে কি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলো-অন করানো সঠিক কৌশল ছিল?
উল্লেখ্য যে, প্রথম ইনিংসে ৫১৮ রানে ডিক্লেয়ার করার পর ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাসের জোয়ার। যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal), শুভমন গিল (Shubman Gill) সবাই মিলে ব্যাটে আগুন ধরান। কিন্তু জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস ভেঙে পড়ে ২৪৮ রানে। এরপরই ভারত ফলো-অন দেয়। অনেকে ভেবেছিলেন তিনদিনের মধ্যেই টেস্ট শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করল শাই হোপ ও জন ক্যাম্পবেলের জুটি। চতুর্থ দিনের শুরুতে তাদের ব্যাটে যে দৃঢ়তা দেখা গেল, তা অনেক দিন পর ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে দেখা গেছে। বুমরাহ (Jasprit Bumrah), মহম্মদ সিরাজ (Mohammed Siraj), রবীন্দ্র জাদেজা (Ravindra Jadeja), কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) বোলিং পরিবর্তন করে দেখেছেন, কিন্তু উইকেট আসেনি। ক্যাম্পবেল ১৯৯ বল খেলে ১১৫ রান করেন, যার মধ্যে ১২টি চার ও ৩টি ছক্কা। অপরপ্রান্তে শাই হোপ খেলেছেন ১০৩ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস। তাঁদের ব্যাটে ১০০ রানের পার্টনারশিপ ভারতীয় বোলারদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। জাদেজা শেষ পর্যন্ত, ক্যাম্পবেলকে ফেরান। এরপর সিরাজ ফিরিয়ে দেন হোপকে। তবু হার মানেননি বাকি ব্যাটাররা। জাস্টিন গ্রিভস ৫৪ ও জেডন সিলস (Jayden Seales) ৩২ রান যোগ করেন। ফলস্বরূপ, ফলো-অন পর্বে ৩৯০ রানে শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস। ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২১ রান। চতুর্থ দিনের শেষে ভারতের স্কোর ৬৩/১। যশস্বী জয়সওয়াল দ্রুত আউট হলেও সাই সুদর্শন (Sai Sudharsan) ও কেএল রাহুল (KL Rahul) ধীরে ধীরে রান তুলেছেন। সুদর্শন ৩০* ও রাহুল ২৫* রানে অপরাজিত। জয় থেকে মাত্র ৫৮ রান দূরে ভারত। অর্থাৎ পঞ্চম দিনের সকালটা আনুষ্ঠানিকতাই হতে চলেছে।
কিন্তু, এই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ভারতের ‘ফলো-অন’ সিদ্ধান্ত। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোলারদের টানা দুই ইনিংসে বল করানোটা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি ছিল। প্রাক্তন, ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর (Sanjay Manjrekar) এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘ভারতের হাতে যথেষ্ট সময় ছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলো-অন না দিয়ে ব্যাটিং করে ৫০০ রানের টার্গেট দিলেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত থাকত।’ আরও একটি বিতর্ক ঘিরে আছে দিল্লির পিচকে। অনেকেই একে বলছেন ‘ডেড পিচ’। ব্যাটসম্যানদের সুবিধা বেশি, বোলারদের কষ্ট। প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিং (Harbhajan Singh) বলেছেন, ‘এমন পিচে টেস্ট ম্যাচের মজা হারিয়ে যাচ্ছে। বল একদম ঘুরছে না, সিমও করছে না। পঞ্চম দিনে যদি স্পিনারদেরও সাহায্য না মেলে, তবে পিচ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে।’
কুলদীপ যাদব ও বুমরাহ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন, সিরাজ পেয়েছেন ২টি। তবে ধারাবাহিক বোলিংয়ের চাপে কিছুটা ক্লান্ত দেখা গিয়েছে তাঁদের। অনেকে বলছেন, যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ফলো-অন না করানো হত, তাহলে বোলারদের বিশ্রাম মিলত এবং ব্যাটিংয়ে আরও আগ্রাসী কৌশল নেওয়া যেত। তবুও জয় এখন ভারতের নাগালের মধ্যেই। এই জয় পেলে সিরিজ হবে ২-০ তে ভারতের দখলে। ভারতীয় শিবিরে তাই এখন চোখ মঙ্গলবার সকালের দিকে। দিল্লির নিস্তব্ধ বাতাসে রাহুলদের ব্যাট থেকে হয়ত আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শোনা যাবে জয়ধ্বনি। তবে এই ম্যাচটি ভবিষ্যতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে, ভারতীয় ক্রিকেটে কৌশলের প্রয়োগ এখন নতুন করে পর্যালোচনার দাবি রাখে। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে দ্রুত হারানোই নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের ফিটনেসও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির ‘মরা’ পিচে দ্বিতীয় টেস্ট পঞ্চম দিনে টানল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভারতের সামনে জয় সময়ের অপেক্ষা, কিন্তু ফলো-অন সিদ্ধান্তে উঠছে প্রশ্ন। জানুন ম্যাচ বিশ্লেষণ, স্কোরকার্ড ও বিশেষজ্ঞদের মতামত।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs Australia Women: স্মৃতির ৫০০০ রানের রেকর্ডও থামাতে পারল না হিলির তাণ্ডব




