India vs England Test Draw, Jadeja Washington Sundar Century | জাডেজা ও সুন্দরের ব্যাটে ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট ড্র

SHARE:

পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ ম্যাঞ্চেস্টার : টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে কিছু লড়াই শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, গেঁথে যায় হৃদয়ে। ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। রবিবার, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই রকমই এক অসাধারণ লড়াই উপহার দিল ভারতীয় দল। যেখানে শতরান করলেন রবীন্দ্র জাডেজা (Ravindra Jadeja) ও ওয়াশিংটন সুন্দর (Washington Sundar)। আর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে, নেতৃত্ব দিয়ে, চাপ সামলে শতরান করে গেলেন শুভমন গিল (Shubman Gill)। ম্যাচের শেষ দিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকস (Ben Stokes) ড্রয়ের প্রস্তাব দিয়েও ব্যর্থ। কারণ ভারত তখনও লড়াইয়ে বিশ্বাসী। শেষমেশ, এই ম্যাচ ড্র। ম্যাচের ১৩৮তম ওভারে ভারতের স্কোর ছিল ৩৮৬-৪। তখনও দেড় ঘণ্টার মতো খেলা বাকি। সেই সময় স্টোকস এগিয়ে এসে জাডেজাকে ড্রয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু ভারতীয় জুটি সম্মানের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেন। আম্পায়াররাও জানিয়ে দেন, দুই দল রাজি না হলে খেলা চালু থাকবেই। তিন মিনিটের এই ঘটনা যেন গোটা টেস্টের প্রতীক।

চতুর্থ দিনের শেষে যাদের হারের মুখে বলে মনে হয়েছিল, তারাই পঞ্চম দিন মাঠ ছাড়ল মাথা উঁচু করে। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের সাহসী সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে ওয়াশিংটনকে সুযোগ দেওয়া এই ম্যাচে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তামিলনাড়ুর এই ক্রিকেটার আগেও বারবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে উপেক্ষিতই থেকেছেন। এবার তাঁর শান্ত, সংযত ব্যাটিং আরও একবার বুঝিয়ে দিল, লড়াই মানে কী।

পঞ্চম দিনের শুরুতেই আবহ ছিল উত্তেজনার। প্রথম ওভার করতে এলেন লিয়াম ডসন (Liam Dawson), যা অনেককেই অবাক করে। কিন্তু এরপর বেন স্টোকস নিজের হাতে বল তুলে নিয়ে জানান দেন, তিনি ম্যাচ ফেলে দিতে নারাজ। এবং সেই ওভারেই তিনি কেএল রাহুলকে (KL Rahul) প্যাভিলিয়নে ফেরান। বল আচমকা নিচু হয়ে যায়, আর ব্যাট নামানোর আগেই আঘাত হানে প্যাডে। অভিজ্ঞ রাহুল বুঝে যান, রিভিউ নেওয়া বৃথা। ভারতের স্কোর তখন ২৬৩-৪। এই সময় পাঁচে নামার কথা ঋষভ পন্থের (Rishabh Pant), কিন্তু ভাঙা পা নিয়ে তাঁকে পাঠানো যায়নি। বদলে এলেন ওয়াশিংটন। তারপর যা হল, তা শুধু রক্ষণ নয়, মানসিকতার লড়াই। ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা বারবার চেষ্টায় ব্যর্থ। কারণ দুই বাঁ-হাতি, জাডেজা ও ওয়াশিংটনের প্রত্যুত্তর ছিল নিখুঁত। পিচে ‘রাফ’ তৈরি হলেও, ইংল্যান্ডের একমাত্র বাঁ-হাতি স্পিনার ডসন তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।

জাডেজার ইনিংস ছিল পরিণত, ধৈর্যশীল। যদিও ইনিংসের প্রথম বলেই তিনি স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন, যা জো রুট (Joe Root) ফস্কে দেন। সেটাই ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এরপর জাডেজার শতরান যেন সেই অনিশ্চয়তার জবাব হয়ে দাঁড়ায়। আর শুভমন গিল? ব্যাট হাতে এই সিরিজে বারবার তিনি বলেছেন, কেন তাঁকে ভবিষ্যতের নেতা ভাবা হচ্ছে। সমালোচনা, নেতৃত্বের চাপ, সব কিছুর মধ্যেও যেভাবে তিনি সেঞ্চুরি করে গিয়েছেন, তাতে তাঁর মানসিক দৃঢ়তা স্পষ্ট। গ্যারি সোবার্স (Garfield Sobers), ডন ব্র্যাডম্যান (Don Bradman), সুনীল গাওস্কর (Sunil Gavaskar)-এর মতো কিংবদন্তীদের পাশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন মাত্র ২৫ বছর বয়সেই।

উল্লেখ্য, যে মুহূর্তে ইংল্যান্ড হাল ছেড়ে ড্রয়ের প্রস্তাব দেয়, ভারত তখনও চায় খেলতে। আর সেই মনোভাবই এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। শেষ অবধি জয় না এলেও, এ এক মহৎ প্রতিরোধ। যেভাবে সিডনিতে হনুমা বিহারি (Hanuma Vihari) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন (Ravichandran Ashwin) বা ২০০১ সালে ইডেনে লক্ষ্মণ (VVS Laxman)-দ্রাবিড় (Rahul Dravid) করেছিলেন, তেমনই এক স্মরণীয় লড়াই। কিন্তু স্টোকসের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। আহত শরীর, ক্লান্তি, চাপ সব কিছুর পরেও তিনি বোলিং করে গিয়েছেন একটানা। রাহুলের উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে প্রাণ ফেরান। কিন্তু জাডেজা-সুন্দরের জুটির বিরুদ্ধে তিনিও ব্যর্থ। শেষ দিনে স্টোকসের পরিশ্রম অম্লান, কিন্তু সফল্য অধরা। এই টেস্ট আমাদের আবার শিখিয়ে দিল, টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্য আজও অমলিন। যখন সবাই টি-টোয়েন্টি নিয়েই মেতে, তখন কিছু ব্যাটিং লড়াই ক্রিকেটকে ফিরিয়ে আনে তার শিকড়ে। আর সেই শিকড়েই ভারত গর্ব করে দাঁড়িয়ে থাকল ম্যাঞ্চেস্টারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs England 4th Test Day 2 | ম্যাঞ্চেস্টার টেস্টে বাজ়বল, পন্থের লড়াই ম্লান, কম্বোজের অভিষেকেও হতাশার দ্বিতীয় দিন

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন