Howrah Sex Racket | শ্বেতার ফ্ল্যাটে হানা হাওড়া সিটি পুলিশের, উদ্ধার নির্যাতিতার মোবাইল ও সিসিটিভি ডিভিআর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ হাওড়া : হাওড়ার বাঁকড়ার (Bankra) একটি বহুতলের একটি যেন ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়ছে অন্ধকারে। সোদপুরের (Sodepur) নির্যাতিতা তরুণীকে বন্দী করে পর্নকাণ্ডে জড়িয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া শ্বেতা খান (Sweta Khan) এবং তাঁর পুত্র আরিয়ান খান (Aryan Khan)-এর ফ্ল্যাটে রবিবার গভীর রাতে হানা দেয় ডোমজুড় থানার পুলিশ। পুলিশের তল্লাশিতে উদ্ধার হয়েছে নির্যাতিতার মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, একটি ধারালো কাঁচি ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ডিভিআর (Digital Video Recorder)। তদন্তকারীদের দাবি, উদ্ধার হওয়া মোবাইলটি নিখোঁজ তরুণীরই। সেটি থেকেই হয়ত পুরো ঘটনার অনেক প্রমাণ পাওয়া যেতে পারে।

হাওড়া সিটি পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “সিসিটিভি ডিভিআরে ওই ফ্ল্যাটে কে কে আসত, কী ধরনের কার্যকলাপ চলত, তা জানা যাবে। এই ফুটেজ ফরেন্সিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে বিশ্লেষণের জন্য।” তিনি আরও জানান, “ডিভিআর-এ থাকা ভিডিও তথ্যগুলি আমাদের তদন্তে বড় মোড় এনে দিতে পারে।” অভিযোগকারিণী সোদপুরের এক তরুণী। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁর অভিযোগ, যে গত ছয় মাস ধরে তাঁকে বাঁকড়ার ওই ফ্ল্যাটে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। তাঁর দাবি, তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়। ভয় দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে তা অনলাইন মাধ্যমে ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী তাঁকে দিয়ে পর্নগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরির চেষ্টা হয়। তরুণীর কথায়, “আমি কোনও মতে ওখান থেকে পালিয়ে বাড়ি ফিরি। ওরা আমার জীবনটা নরকে পরিণত করেছিল।” এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্বেতা, আরিয়ান এবং শ্বেতার নাবালিকা কন্যাকে গ্রেফতার করে ডোমজুড় থানা।

ধৃত শ্বেতা ও আরিয়ানকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের আট দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বর্তমানে তাঁরা সেই হেফাজতেই রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতেরা এখনও নিজেদের নির্দোষ দাবি করে চলেছে। শ্বেতা খান বলেন, “আমাদের ফাঁসানো হয়েছে। যা বলা হচ্ছে, সবটাই মিথ্যে।” পুলিশ সেই দাবিকে বিশেষ আমল দিচ্ছে না। তদন্তকারীদের মতে, মেয়েটির বক্তব্য যথেষ্ট সুসংহত ও তার শরীরে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন ও মানসিক অবস্থাও সেই বক্তব্যের সঙ্গে মেলে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া কাঁচি এবং ল্যাপটপ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ। এক তদন্তকারী আধিকারিক বলেন, “ল্যাপটপে কোনও ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার রয়েছে কি না, বা কোনও কনটেন্ট সেভ করা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তিনি জানান, এই মামলায় ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বিস্ময়ের সঙ্গে বলছেন, “আমরা কখনও বুঝতেই পারিনি ওদের ফ্ল্যাটে এমন কিছু হতে পারে। ওরা সাধারণভাবেই চলাফেরা করত।” তবে কেউ কেউ জানিয়েছেন, মাঝে মাঝেই ফ্ল্যাটে বাইরের লোকজন যাওয়া-আসা করতেন, এবং কখনও কখনও উচ্চ শব্দে গান বা চিৎকার শোনা যেত। এই ঘটনাকে ঘিরে শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নারী নির্যাতন ও সাইবার অপরাধের এই ভয়ানক সংমিশ্রণ সামাজিক দায়বদ্ধতা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এই তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং আরও ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” পাশাপাশি, নির্যাতিতার সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য সম্পর্কেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে মামলার পরবর্তী ধাপ নির্ভর করছে ডিভিআর-এর ফুটেজ এবং মোবাইল-ল্যাপটপ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর। তদন্তকারীরা আশাবাদী, এই প্রযুক্তিগত প্রমাণই ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে তাঁদের সাহায্য করবে।তবে সমাজের একাংশের মত, এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, কীভাবে শহরের মাঝেই অন্ধকারে ঢেকে থাকে ভয়ঙ্কর ঘটনা। প্রযুক্তি যেখানে আশীর্বাদ, সেখানেই তা অভিশাপে পরিণত হতে কতটা সময় লাগে এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Howrah Pornography racket : হাওড়ার ‘পর্ন-চক্র’ কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন