বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি: দেশের কর কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চালু হতে চলেছে জিএসটি ২.০ (GST 2.0)। নতুন ব্যবস্থায় থাকছে মাত্র দুটি কর স্ল্যাব ৫ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। বাদ যাচ্ছে আগের ১২ শতাংশ ও ২৮ শতাংশের স্ল্যাব। সরকার জানিয়েছে, এতে কর ব্যবস্থায় আসবে সরলীকরণ, বাড়বে স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের বোঝা কমবে। তবে এখানেই শেষ নয়। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman) জানালেন, ইতিমধ্যেই জিএসটি ৩.০ (GST 3.0)-এর পরিকল্পনাও শুরু হয়ে গেছে।
অর্থমন্ত্রী এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “২০১৭ সালে জিএসটি ১.০ (GST 1.0) আনা হয়েছিল। তখনই বলা হয়েছিল এটা গেম চেঞ্জার। সেই সংস্কারে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একই ছাতার তলায় আনা সম্ভব হয়েছিল। এবার জিএসটি ২.০-তে কর কাঠামো আরও সহজ করা হচ্ছে। কিন্তু এটুকুই শেষ নয়। জিএসটি ৩.০-তে আরও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে।” তিনি জানান, প্রথম থেকেই সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল ব্যবসা সহজ করা ও সাধারণ মানুষের ওপর থেকে করের বোঝা কমানো। জিএসটি ২.০ চালুর পর কর স্ল্যাব কমে যাওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশাবাদী কেন্দ্র।

অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন বলেন, “২২ সেপ্টেম্বরের পর আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হবে নজরদারি। যাতে কর কমানোর সুবিধা খুচরো গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে যায়। কম দামে পণ্য মানুষের হাতে পৌঁছনোটা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।” উল্লেখ্য যে, নতুন জিএসটি কাঠামোয় দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসে থাকবে ন্যূনতম কর। যেমন নুন ও চিনি একই স্ল্যাবে রাখা হয়েছে। কিন্তু চিনি যুক্ত পানীয় ও বিভিন্ন মিষ্টি দ্রব্যে আলাদা কর বসানো হবে। শিক্ষা খাতেও আসছে পরিবর্তন। স্কুলে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিস থাকবে করমুক্ত। তবে বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল মধ্যবিত্ত শ্রেণির সুরক্ষা। তাই অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে সর্বনিম্ন হারে কর রাখা হয়েছে। আবার বিলাসবহুল সামগ্রীতে তুলনামূলক বেশি কর বসানো হবে।”
জিএসটি ২.০ ঘোষণার পর ব্যবসায়িক মহলও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। অনেক শিল্পপতি মনে করছেন, কম স্ল্যাবের কারণে বাজারে প্রতিযোগিতা আরও স্বচ্ছ ও নির্ভেজাল হবে। এতে ভোক্তাদের আস্থা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিএসটি ৩.০-র পরিকল্পনা শুরু হওয়া মানেই সরকারের দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার। জিএসটি ৩.০ নিয়ে এখনও খোলসা করে কিছু না বললেও নির্মলা সীতারামন ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতের সংস্কারে স্বচ্ছতা, কর সংরক্ষণ ও ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকে জোর দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “জিএসটি ২.০-কে ধরে রেখে তার সংরক্ষণ ও উন্নতি ঘটানোই হবে জিএসটি ৩.০-র লক্ষ্য।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জিএসটি ১.০ চালুর পর যেমন বড় ধরনের আর্থিক সংস্কার হয়েছিল, এবার জিএসটি ২.০ নতুন করে বাজারে সজীবতা আনতে সক্ষম হবে। যদি জিএসটি ৩.০-তেও সরকার একইভাবে স্বচ্ছতা ও সরলীকরণের নীতি মেনে চলে, তাহলে ভারতের অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও গভীর হবে। বলা যায়, জিএসটি ২.০ দেশবাসীর জন্য এক নতুন কর যুগের সূচনা করতে চলেছে। আর জিএসটি ৩.০-এর পরিকল্পনা শুরু হয়ে যাওয়ায় বোঝাই যাচ্ছে, কেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশের আর্থিক কাঠামোকে আরও আধুনিক ও সহজ করার পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী সমাজ উভয়ই এর সুফল পাবে বলেই আশাবাদী সরকার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : GST 2.0, PM Modi Double Dose, GST Reforms 2025 | জিএসটি সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দাবি: ‘ভারতের উন্নয়নে ডাবল ডোজ’




