সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ম্যাঙ্গালোর : বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ম্যাঙ্গালোরের তরুণী রেমোনা ইভেট পেরেইরা (Ramona Yvette Pereira)। টানা ১৭০ ঘণ্টা ধরে একটানা ভরতনাট্যম পরিবেশন করে নিজের নাম তুলেছেন গোল্ডেন বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ (Golden Book of World Records)। এক মুহূর্তের জন্য থামেননি। কোনও বিশেষ ইভেন্ট নয়, এটা ছিল একটানা অধ্যবসায়ের মঞ্চ। এই কীর্তি প্রমাণ করল, সংকল্প থাকলে মানুষের কাছে অসম্ভব বলে কিছু থাকে না।
Read | Divya Deshmukh, Women’s Chess World Cup 2025 | ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ দিব্যা দেশমুখের হাতে
রেমোনা সেন্ট অ্যালোইসিয়াস ডিমড টু বি ইউনিভার্সিটি (St Aloysius Deemed to be University)-র বিএ শেষ বর্ষের ছাত্রী। এই বয়সে যখন অনেকেই কেরিয়ার নিয়ে দোদুল্যমান, রেমোনা তখন ইতিহাস লিখলেন নিজের নাচের মাধ্যমে। ২১ জুলাই শুরু হওয়া এই অদ্বিতীয় নৃত্যাভিনয় শেষ হয় ২৮ জুলাই। মাঝেমধ্যে প্রতি তিন ঘণ্টায় ১৫ মিনিট করে বিশ্রামের অনুমতি মিললেও, বাকি সময়টা তিনি নিঃশ্বাস ফেলেননি নৃত্যের বাইরে।এই নজিরবিহীন সাফল্য শুধুমাত্র শারীরিক কসরত নয়, এটা রেমোনার মানসিক দৃঢ়তা, নিষ্ঠা ও আত্মনিবেদনের প্রতিফলন। এই সাত দিন তাঁর পাশে ছিলেন বাবা-মা, শিক্ষকেরা ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী। যখন ১৭০ ঘণ্টা পূর্ণ হয়, তখন গোটা হলজুড়ে গর্জে ওঠে করতালির ঢেউ।
রেমোনা গত ১৩ বছর ধরে গুরু বিদ্যা (Guru Vidya)-র কাছে ভরতনাট্যমে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। পাশাপাশি পড়াশোনাতেও কোনও কমতি রাখেননি। প্রতিদিন কলেজে যাওয়ার আগে ও পরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কঠিন অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “প্রতিদিন আমি নিজেকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য লড়াই করেছি। আমি জানতাম, এই রেকর্ড ভাঙা সম্ভব, যদি মন এবং শরীরকে এক রেখায় চালানো যায়।” এই রেকর্ডের আগে ২০২৩ সালে ১৬ বছর বয়সী সুধীর জগপথ (Sudhir Jagpath) ১২৭ ঘণ্টা নেচে রেকর্ড গড়েছিলেন। রেমোনা এবার সেই রেকর্ডকে ছাপিয়ে দিলেন এক বিশাল ব্যবধানে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্গা আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের পরিচালক ক্রিস্টোফার ডি’সুজা (Christopher D’Souza) জানিয়েছেন, “প্রতিটি মুহূর্ত ছিল ভীষণ আবেগঘন। আমরা ওঁর দৃঢ়তা ও শৃঙ্খলা দেখে অভিভূত। একাধারে পড়ুয়া ও শিল্পী হয়ে রেমোনা আমাদের কাছে এক অনন্য উদাহরণ।” শুধু ভরতনাট্যমেই নয়, রেমোনা দক্ষতা অর্জন করেছেন সেমি-ক্লাসিক্যাল, ওয়েস্টার্ন ও কনটেম্পোরারি নৃত্যশৈলীতেও। এর আগেও তিনি নাম তুলেছেন ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডস (India Book of Records), গোল্ডেন বুক অব রেকর্ডস (London), এবং ভারত বুক অব রেকর্ডস (Bharat Book of Records) -এ। ২০১৭ সাল থেকেই একের পর এক অর্জন দিয়ে তিনি নিজের জাত চিনিয়ে যাচ্ছেন। ২০২২ সালে তাঁর শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসাবে তিনি পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় বাল পুরস্কার (Pradhan Mantri Rashtriya Bal Puraskar)। সেই সম্মান তখনও তাঁকে জাতীয় স্তরে আলোচনার কেন্দ্রে এনেছিল। এবার এই বিশ্ব রেকর্ড তাঁকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিল।
রেমোনার এই পারফরম্যান্সের সমস্ত ভিডিও ফুটেজ, স্বাস্থ্য রিপোর্ট ও অন্য নথিপত্র ইতিমধ্যেই পাঠানো হয়েছে গোল্ডেন বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্তৃপক্ষের কাছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত এই রেকর্ড সরকারিভাবে স্বীকৃতি পাবে। রেমোনার এই অবিস্মরণীয় প্রয়াস শুধু ম্যাঙ্গালোর নয়, গোটা দেশের কাছে এক অনুপ্রেরণা। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি প্রমাণ করে দিলেন, যদি হৃদয়ের গভীর থেকে কিছু ভালোবাসা যায়, তবে সে ভালোবাসাই হয়ে ওঠে বিশ্ব ইতিহাসের অংশ।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : most eaten fish in the world | বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাছ টুনা, ইলিশ তালিকায় অনেক পিছিয়ে!




