Ghatal Flood School Exam | ঘাটাল বন্যা, স্কুলের পরীক্ষায় ডিঙি নৌকাই ভরসা পড়ুয়াদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঘাটাল : ঘাটাল একসময় পশ্চিম মেদিনীপুরের শান্ত শহর হিসেবে পরিচিত হলেও, এখন তা কার্যত জলমগ্ন জনপদে পরিণত হয়েছে। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে ও শিলাবতী নদীর (Shilabati River) জল বিপজ্জনক হারে বেড়ে যাওয়ায়, ঘাটালের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে রয়েছে বন্যার জলে। যদিও বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে, তবুও বহু এলাকা এখনও জলের তলায়, আর যোগাযোগ ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পাকা রাস্তা ও গলিতে কোমর সমান জল, কোথাও আবার বুকসমান জল দাঁড়িয়ে আছে। ফলে, স্কুলপড়ুয়া থেকে শুরু করে চাকুরিজীবী সবাইকে বাধ্য হয়েই নৌকায় করে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে মাধ্যমিক স্তরের সাপ্তাহিক পরীক্ষা। সাধারণ অবস্থায় এই পরীক্ষা অনেক আগেই হয়ে যেত, কিন্তু হঠাৎ বন্যায় গোটা অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সব সূচী পিছিয়ে যায়। এখন ধীরে ধীরে জল নামলেও রাস্তা দিয়ে যাতায়াত কার্যত অসম্ভব, ফলে ডিঙি নৌকাই হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা। ঘাটাল গুরুদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের (Ghatal Gurudas High School) প্রধান শিক্ষক সমরেন্দ্র আদক (Samrendra Adak) বলেন, “আমাদের স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য ৪টি নৌকা রাখা হয়েছে। যেসব ছাত্রছাত্রী এই মুহূর্তে স্কুলে আসতে পারছে না, তাদের জন্য পরে আলাদা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এ বছর পরপর পাঁচবার স্কুল বন্যার জলে ডুবে গেছে। প্রথম দুটি পরীক্ষা নেওয়ার পরই হঠাৎ জল এত বেড়ে যায় যে পরীক্ষার সূচি থামিয়ে দিতে হয়েছিল।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাই না পড়ুয়ারা পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়ুক। কিন্তু নিরাপত্তার কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে। তাই নৌকায় করে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস (Suman Biswas) বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানান, “বন্যার জল অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। গুরুদাস হাইস্কুল কিছুদিন আগেও পুরোপুরি জলের তলায় ছিল। এখন স্কুল ভবন থেকে জল নেমে গেছে, তবে রাস্তাঘাটে এখনও জল রয়েছে। স্কুলে পরীক্ষা চলছে এবং পৌরসভা (Ghatal Municipality) থেকে ৪টি নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অনেক পরিবারের নিজস্ব নৌকাও আছে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছরই ঘাটাল বন্যার কবলে পড়ে ও সমস্যা বারবার একই জায়গায় ফিরে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘমেয়াদী বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনা না হলে এই চিত্র পাল্টানো সম্ভব নয়। প্রতিবারই প্রশাসন ত্রাণ ও সাময়িক সমাধান দেয়, কিন্তু স্থায়ী উদ্যোগের অভাবে জলমগ্ন পরিস্থিতি বারবার ঘুরে ফিরে আসে।

উল্লেখ্য যে, পড়ুয়াদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে। একজন অভিভাবক জানান, “প্রতিদিন নৌকায় করে মেয়েকে স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগে। কিন্তু পরীক্ষা না দিলে ও পিছিয়ে পড়বে, তাই ঝুঁকি নিয়েই পাঠাচ্ছি।” প্রসঙ্গত, শহরের অনেক অংশে জল সরতে শুরু করলেও, বাজারঘাট ও স্কুলের সংযোগকারী রাস্তাগুলো এখনও অচল। ডিঙি চালকদের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে যাতায়াতকারীদের। নৌকার জন্য নির্দিষ্ট ভাড়া ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অনেক সময় তা বাড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক সবারই একটাই দাবি, দ্রুত জল নেমে যাক ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরুক। প্রশাসনও আশ্বাস দিয়েছে, কয়েকদিনের মধ্যে জল অনেকটাই কমে যাবে। তবে অভিজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘাটালের বাসিন্দাদের এই জলযন্ত্রণা থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News, Sunday’s Literature Special | 10th August 2025, Issue 77, Sunday | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ১০ আগস্ট ২০২৫, সংখ্যা ৭৭। রবিবার

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন