সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের যোগাযোগের তথ্য নতুন নয়। তবে এবার সেই বিতর্কিত তালিকায় উঠে এল ভারতীয় শিল্পপতি অনিল অম্বানীর (Anil Ambani) নাম। আমেরিকার বিচার দফতর (US Department of Justice) সম্প্রতি এপস্টিন ফাইলের প্রায় ৩০ লক্ষ পাতা প্রকাশ্যে এনেছে। সেই বিপুল নথির মধ্যেই মিলেছে এমন কিছু মেসেজ ও যোগাযোগের তথ্য, যা ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। নথি অনুযায়ী, ২০১৭ থেকে ২০১৯ এই প্রায় দু’বছর ধরে অনিল আম্বানীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছিলেন এপস্টিন। শুধু তা-ই নয়, মেসেজ আদানপ্রদানের একাধিক অংশে নারীদের নিয়ে কুরুচিকর প্রস্তাবের কথাও উঠে এসেছে বলে উল্লেখ। প্রকাশিত নথি বলছে, এপস্টিন অনিল আম্বানীর সঙ্গে ‘ভাব জমাতে’ প্রায় এক বছর সময় ব্যয় করেছিলেন। ব্যবসা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বিনোদন দুনিয়া থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত রুচি, বিভিন্ন বিষয়েই কথোপকথন হয়েছিল তাঁদের মধ্যে। নথিতে থাকা মেসেজ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ৯ মার্চ একটি বার্তায় অনিল লেখেন, ‘কাকে প্রস্তাব করছেন?’ উত্তরে এপস্টিন জানান, ‘দীর্ঘাঙ্গী একজন সুইডিশ শ্বেতাঙ্গ মহিলা, দেখা করলে মজা হবে।’ এর মাত্র কুড়ি সেকেন্ডের মধ্যেই অনিলের জবাব আসে, ‘ব্যবস্থা করুন।’ এই কথোপকথন ঘিরেই সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
নথি থেকে আরও জানা যাচ্ছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে প্যারিসে (Paris) সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনাও করেছিলেন এপস্টিন ও অনিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই সাক্ষাৎ বাস্তবায়িত হয়নি। পরে ২০১৮ সালে ডাভোসে (Davos) তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) ভাষণ নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। সেই সময় অনিল জানান, ২০১৯ সালের মে মাসে নিউ ইয়র্কে (New York) যাওয়ার তাঁর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরে এপস্টিন তাঁকে লেখেন, ‘কারও সঙ্গে যদি চুপচাপ দেখা করতে চান, তা হলে আমাকে জানাবেন।’ এই বার্তাগুলি থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান, দু’জনের মধ্যে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ নিয়েও কথাবার্তা এগিয়েছিল।
এপস্টিনের একজন সহকারীর বয়ান অনুযায়ী, ম্যানহাটনে (Manhattan) এপস্টিনের বাড়িতে অনিল অম্বানীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিল। পরে এপস্টিনের পাঠানো একটি মেসেজেও লেখা ছিল, ‘আজ দারুণ গেল। আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভাল লাগল।’ যদিও এই বিষয়ে অনিল আম্বানীর প্রতিনিধিরা কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ২০১৭ সালের আর একটি কথোপকথনে এপস্টিন অনিলকে প্রশ্ন করেন, তাঁর কেমন ধরনের মহিলা পছন্দ। তিনি লেখেন, ‘কোনও অভিনেত্রী বা মডেলের প্রতি কী আপনার ঝোঁক রয়েছে? আশা করি, মেরিল স্ট্রিপ (Meryl Streep) হবে না। তা হলে কিছু করার নেই।’ জবাবে অনিল মজা করে লেখেন, ‘রুচি একটু ভাল করুন বন্ধু। আমাদের পরের ছবি স্কারলেট জোহানসনের (Scarlett Johansson) সঙ্গে।’ উত্তরে এপস্টিন লেখেন, ‘আমি শুনে খুশি হলাম যে বয়স্কদের তুলনায় শ্বেতাঙ্গ তরুণীদের আপনি পছন্দ করেন।’ এই কথোপকথন ঘিরেও নৈতিকতা ও রুচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য যে, ওই সময়েই স্কারলেট জোহানসন অভিনীত ‘গোস্ট ইন দ্য শেল’ (Ghost in the Shell) ছবিটি মুক্তি পায়। ছবিটির সহ-প্রযোজনা করেছিল অনিল অম্বানীর সংস্থা রিলায়্যান্স এন্টারটেনমেন্ট (Reliance Entertainment)। ফলে বিনোদন জগতের প্রসঙ্গ টেনেই যে এই কথোপকথন হয়েছিল, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন অনেকে। উল্লেখ যে, এই বিতর্ক এমন একটি সময়ে সামনে এল, যখন অনিল অম্বানী ও তাঁর রিলায়্যান্স এডিএজি (Reliance ADAG) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ অন্যত্র সরানোর অভিযোগ উঠেছে। যদিও এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগের নথি এবং আর্থিক তদন্ত, এই দুইয়ের মধ্যে সরাসরি যোগ এখনও প্রমাণিত হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার আমেরিকার বিচার দফতর এপস্টিন ফাইলের বিশাল অংশ প্রকাশ্যে আনে। সেই নথিতে রয়েছে প্রায় ২ হাজার ভিডিয়ো এবং ১ লক্ষ ৮০ হাজার ছবি। এর আগেও প্রকাশিত ফাইলগুলিতে এপস্টিনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টনের (Bill Clinton) যোগাযোগের তথ্য সামনে এসেছিল। রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়েই এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে, ২০০৬ সালে নাবালিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে প্রথম গ্রেফতার হন এপস্টিন। পরে ২০০৮ সালে তাঁর বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের মামলা দায়ের হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের অগস্টে ফের গ্রেফতার হওয়ার এক মাসের মধ্যেই নিউ ইয়র্কের জেলেই তিনি আত্মহত্যা করেন। তবে তাঁর মৃত্যুর পরেও এপস্টিন ফাইল প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব জুড়ে একের পর এক প্রভাবশালী নাম উঠে আসছে। সেই তালিকায় অনিল অম্বানীর নাম যুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে ভারতীয় কর্পোরেট ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Tina Ambani ED summon, Anil Ambani corruption case | ৪০ হাজার কোটির তদন্তে নতুন মোড়, ইডি-র সমন এড়িয়ে গেলেন টিনা আম্বানী




