সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে আপত্তিকর ও বেআইনি তথ্য সরানোর প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়ম জারি করেছে। এই পদক্ষেপ এসেছে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক (Elon Musk) সংস্থার এক্স (X) প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সমাজমাধ্যম থেকে তথ্য সরানোর নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা শুধুমাত্র সিনিয়র সরকারি আধিকারিকদের হাতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রক (Ministry of Electronics and Information Technology) বুধবার রাতে এই সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যে কোনও তথ্য ব্লক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই কারণ স্পষ্টভাবে জানাতে হবে এবং আইনের বিস্তারিত বর্ণনা দিতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে, যে কোনও ‘উপযুক্ত সরকারি আধিকারিক’ যে কোনও সমাজমাধ্যমে তথ্য সরানোর নির্দেশ দিতে পারতেন। তবে নতুন নিয়মে এই ক্ষমতা এখন সীমিত করা হয়েছে। শুধুমাত্র যাঁরা কোনও বিভাগের জয়েন্ট সেক্রেটারি বা সমতুল পদে রয়েছেন, তারাই এই নির্দেশ দিতে পারবেন। পুলিশের ক্ষেত্রে, ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DIG) এই নির্দেশিকা জারি করতে পারবেন। এক বরিষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট একটি কাঠামো তৈরি করা। যে কোনও সাধারণ আধিকারিক এই ধরনের নির্দেশ দিতে পারবে না। এটি শুধুমাত্র সিনিয়র আধিকারিকদের জন্য সীমাবদ্ধ।’’ এই পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ এবং আইনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আইনবিদরা মনে করছেন, এই নিয়মের সঙ্গে কর্নাটক হাই কোর্টের সম্প্রতি এক্স (X) সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে। হাই কোর্ট জানিয়েছে, সমাজমাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি অপরিহার্য, বিশেষত মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ক্ষেত্রে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, নিয়মিত নজরদারি না করলে নাগরিক মর্যাদার অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
মাস্কের সংস্থা আদালতে অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকারি আধিকারিকদের অনির্দিষ্ট ক্ষমতার কারণে তাদের প্ল্যাটফর্মে তথ্য ব্লক করা হয়। তবে আদালত সংস্থার আবেদন প্রত্যাখ্যান করে এবং নির্দেশ দেয় যে সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলিতে তথ্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের নতুন নিয়ম কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় পর্যায়েই প্রযোজ্য হবে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, সমাজমাধ্যম কর্তৃপক্ষকে যে কোনও ব্লক নির্দেশের কারণ বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ২০০০ সালের প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন।আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ থেকে সরকারি আধিকারিকদের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে। সিনিয়র কর্মকর্তাদের হাতে এই নিয়ন্ত্রণ থাকায় তথ্যের স্বচ্ছতা এবং আইনি প্রক্রিয়া আরও নির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করা সম্ভব হবে।
তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলো যেমন এক্স (X), ফেসবুক (Facebook), ইনস্টাগ্রাম (Instagram) এবং ইউটিউব-এ (YouTube) আপত্তিকর বা বেআইনি তথ্যের ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। এই পদক্ষেপ কেন্দ্রের জন্য একটি স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণের দিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ নাগরিকদের তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমাজমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ায় সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করবে।
কেন্দ্রের নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, সমাজমাধ্যমে তথ্য সরানোর ক্ষেত্রে শুধু আইনগত দায়িত্ব পূরণ করা নয়, বরং প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনের কারণও প্রকাশ করতে হবে। এটি সামাজিক দায়িত্ব এবং স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে এক নতুন দিক নির্দেশ করছে। উল্লেখ্য যে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ হবে এবং নাগরিক অধিকার, তথ্যের নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য স্থাপন সম্ভব হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Elon Musk Satellite Internet, Star Link | ভারতে চালু হওয়ার আগেই বিরাট ধাক্কা স্টারলিঙ্কে, বিশ্বজুড়ে বিভ্রাটে চাপে ইলন মাস্কের সংস্থা




