সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মেমারি : পূর্ব রেলের বর্ধমান-হাওড়া লোকাল (Burdwan-Howrah Local) ট্রেন শুক্রবার সকালে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা থমকে যায় মেমারি (Memari) স্টেশনে। সকাল ৭টা ২৬ মিনিটে বর্ধমান স্টেশন থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি যখন মেমারির ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢোকে, তখনই ঘটে এই বিপত্তি, যা যাত্রীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ ছড়ায়।প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ট্রেনের ইঞ্জিনে উপস্থিত এক রেলকর্মী নামার সময় কিছু জিনিস ইঞ্জিনের যান্ত্রিক অংশের ভেতরে পড়ে যায়। সেগুলি তুলতে গিয়ে তাঁর হাত আটকে যায় ইঞ্জিনের ফাঁকে। ঘটনাটি এতটাই হঠাৎ ঘটে যে প্রথমে চালক ও অন্যান্য কর্মীরা হতবাক হয়ে পড়েন। এরপর খবর পেয়ে দ্রুত স্টেশনের অন্যান্য রেলকর্মীরা ছুটে আসেন ও উদ্ধারের কাজ শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টার পর অবশেষে রেলকর্মীর হাত ইঞ্জিন থেকে মুক্ত করা সম্ভব হয়। এই পুরো সময় জুড়ে যাত্রীদের অস্বস্তি বাড়তে থাকে, কারণ ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মেই দাঁড়িয়ে ছিল ও যাত্রাপথেও দীর্ঘ বিলম্ব ঘটে। অনেক যাত্রী কর্মস্থল বা অন্যান্য জরুরি কাজে যাওয়ার পথে পড়ে বিপাকে পড়েন। তবে রেল কর্তৃপক্ষের তরফে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের অন্য ট্রেনে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পূর্ব রেলের জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত (Diptimoy Dutta) এ বিষয়ে জানান, “ইঞ্জিনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণে বর্ধমান-হাওড়া লোকালটি মেমারি স্টেশনে প্রায় দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিল। পরবর্তীতে সমস্যার সমাধান হওয়ার পর ট্রেনটি হাওড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।” যদিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত যাত্রীরা জানিয়েছেন, বিলম্বের সময় প্রায় দুই ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায় ও এর মধ্যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই ঘটনার জেরে রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। ইঞ্জিনের ভেতর প্রবেশ বা কাছাকাছি কাজ করার সময় সুরক্ষা প্রটোকল মেনে চলা কতটা জরুরি, তা নিয়েই এখন আলোচনা শুরু হয়েছে রেলকর্মী মহলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত রেলকর্মীকে চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্টেশনের প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয় ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। তাঁর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মত, রেলকর্মীদের জন্য আরও কঠোর সুরক্ষা প্রশিক্ষণ এবং উন্নত যান্ত্রিক সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকা জরুরি।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Vidyasagar Setu traffic restriction | রবিবার থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে পণ্যবাহী যান নিয়ন্ত্রণ, জানুন বিকল্প পথ




