সাশ্রয় নিউজ ★ ওয়াশিংটন : বিশ্ব অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করে ফের একবার আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। আমদানিকারী দেশগুলিকে ধাক্কা দিতে প্রস্তুত তাঁর সরকার। কিন্তু বাস্তবে কবে থেকে কার্যকর হবে এই নতুন শুল্ক? ৯ জুলাই না ১ আগস্ট? এই দ্বিধা থেকেই তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে এক বৃহৎ বিভ্রান্তি। একদিকে ট্রাম্প বলছেন, ‘৯ জুলাইয়ের মধ্যে বেশিরভাগ দেশ চুক্তি সেরে ফেলবে’, আবার অন্যদিকে কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেন, ‘১ অগস্ট থেকেই কার্যকর হবে নতুন আমদানি শুল্ক’। পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকায় অবশেষে মুখ খুলল মার্কিন প্রশাসন।
জটিলতার সূচনা প্রেসিডেন্টের বক্তব্য থেকেই। চলতি বছরের ২ এপ্রিল তিনি ঘোষণা করেন, বিভিন্ন দেশের উপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হবে, যার হার সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সেই সঙ্গে বন্ধু রাষ্ট্রও রেহাই পাবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন। তখনই আমেরিকার নতুন শুল্কনীতি ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়। সেই স্থগিতাদেশ শেষ হচ্ছে ৯ জুলাই। ফলে প্রশ্ন ওঠে, এই দিন থেকেই কি কার্যকর হবে চড়া হারে শুল্ক?এই জল্পনার মধ্যেই ট্রাম্প ফের জানান, ‘আমার মনে হয় ৯ জুলাইয়ের মধ্যেই বেশিরভাগ দেশ বাণিজ্য চুক্তি সম্পূর্ণ করে ফেলবে। শুল্ক আরোপ হবেই।’ এ কথা শোনার পরেই অনেকে ধরে নেন ৯ জুলাই থেকেই শুল্ক লাগু হচ্ছে। কিন্তু ট্রাম্পের আরেক বক্তব্যে নতুন একটি দিন উঠে আসে, ১ আগস্ট। সেখান থেকেই বিভ্রান্তি তুঙ্গে।এই ধোঁয়াশার অবসান ঘটান মার্কিন বিদেশসচিব হাওয়ার্ড লুটনিক (Howard Lutnick)। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘নতুন হারে শুল্ক কার্যকর হবে ১ আগস্ট থেকেই। তবে প্রেসিডেন্ট এখন থেকেই চূড়ান্ত করছেন কার উপর কত হারে শুল্ক বসবে ও কোনও কোনও দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হবে।’ অর্থাৎ ৯ জুলাইয়ের মধ্যে চুক্তি হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট দেশ শুল্কছাড় পাবে, আর বাকি দেশগুলির জন্য ১ অগস্ট থেকে কার্যকর হবে চড়া শুল্কের নীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেসব দেশের সঙ্গে আলোচনা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে, তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হবে আলাদা করে। চিঠি দিয়ে জানানো হবে কার উপর শুল্ক লাগু হবে এবং কারা ছাড় পাবে। সোমবার থেকেই এই চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশল হল চাপ সৃষ্টি করে বাণিজ্য চুক্তি আদায় করা। কারণ যেসব দেশ আলোচনা চূড়ান্ত করতে দেরি করছে, তাদের সামনে বিকল্প নেই, চুক্তি করুন বা শুল্ক দিন। উল্লেখ্য, ২ এপ্রিল ঘোষিত সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল একাধিক দেশ, ভারত (India), চিন (China), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ভিয়েতনাম (Vietnam), জাপান (Japan), দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea), যুক্তরাজ্য (UK), ইজ়রায়েল (Israel), সুইৎজ়ারল্যান্ড (Switzerland), ও তাইল্যান্ড (Thailand)। আমেরিকার শুল্ক হার সেই অনুযায়ী ছিল যথাক্রমে ভারত ২৬%, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২০%, ভিয়েতনাম ৪৬%, জাপান ২৪%, দক্ষিণ কোরিয়া ২৫%, যুক্তরাজ্য ১০%, তাইল্যান্ড ৩৬%, এবং সুইৎজ়ারল্যান্ড ৩১%। ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বাড়তি ২৫% শুল্ক বহাল ছিল। এই ৯০ দিনের স্থগিতাদেশের মধ্যে ক’য়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চিন, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ইতিমধ্যেই সফল সমঝোতা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরাও আলোচনার জন্য আমেরিকায় উপস্থিত হয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ‘আগামী ক’দিনে আরও বেশ কিছু চুক্তি সম্পন্ন হবে। আলোচনা ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছে।’
প্রসঙ্গত, যেসব দেশ এই সময়ের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছতে পারবে না, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে কড়া শুল্কের বোঝা। আমেরিকার স্পষ্ট বার্তা, ১ আগস্ট থেকেই কার্যকর হবে নতুন নীতি। যদিও ১ আগস্টের পরেও যদি কোনও দেশ আলোচনায় বসতে চায়, তাহলে আমেরিকা তা বিবেচনা করতে প্রস্তুত।বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘শুল্ক চাপ প্রয়োগ’ কৌশল বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে ঠিকই, কিন্তু অন্যদিকে অনেক দেশকেই চুক্তির টেবিলে নিয়ে আসতে সফল হচ্ছে ওয়াশিংটন।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Donald Trump new bill | ‘বড় ও সুন্দর বিল’ আইনে সই ট্রাম্পের! স্বাস্থ্য বিমা হারানোর শঙ্কা, অর্থনীতি নিয়ে তোলপাড় মার্কিন মুলুকে




