সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন, ১৫ অক্টোবর: ফের আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ঘিরে এবার তিনি বড় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যদি তিনি মনে করেন বস্টন (Boston) শহর ‘নিরাপদ নয়’, তাহলে তিনি ম্যাচগুলো ‘সরিয়ে নিতে পারেন’। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে মার্কিন রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে।
হোয়াইট হাউসে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলি (Javier Milei)-এর সঙ্গে যৌথ উপস্থিতিতে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এই ম্যাচগুলো সরিয়ে নিতে পারি। আমি বস্টনের মানুষকে ভালবাসি, কিন্তু তোমাদের মেয়র ভাল না। তিনি মেধাবী, কিন্তু চরম বামপন্থী। শহরের কিছু অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবেই ইঙ্গিত মিলেছে যে, তিনি বস্টনের মেয়র মিশেল উ-এর (Michelle Wu) প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প আরও বলেন, যদি শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে তিনি সরাসরি ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো (Gianni Infantino) -এর সঙ্গে কথা বলবেন। তাঁর ভাষায়, ‘জিয়ান্নি অসাধারণ একজন মানুষ। আমি তাকে ফোন করে বলব, চলুন অন্য কোথাও নিয়ে যাই। সে এটা খুব সহজেই করবে।’
তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে ফিফার হাতে। ফিফার সহ-সভাপতি ভিক্টর মন্টাগলিয়ানি (Victor Montagliani) এই প্রসঙ্গে বলেন, “এটা ফিফার টুর্নামেন্ট, তাই সিদ্ধান্তও ফিফারই হবে।” তাঁর মন্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনও দেশের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ভিত্তিতে ম্যাচ ভেন্যু পরিবর্তনের সম্ভাবনা কার্যত নেই। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে। ফিফা ইতিমধ্যেই ২০২২ সালে ১৬টি শহরকে ম্যাচ ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা করেছে। বস্টনের নিকটে ফক্সবোরো (Foxborough) শহরের বিখ্যাত জিলেট স্টেডিয়াম (Gillette Stadium) -এ সাতটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ১৩ জুন, যেখানে গ্রুপ সি-র দুটি দল মুখোমুখি হবে।
কিন্তু সম্প্রতি বস্টনের কিছু এলাকায় রাতের স্ট্রিট পার্টিতে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং একটি টহল গাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাগুলিই ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘নিরাপত্তা’ ইস্যুর ভিত্তি তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনিক ব্যর্থতার আঙুল তুলে মেয়র মিশেল উ-এর ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য শুধুমাত্র ক্রীড়া সম্পর্কিত নয়, আসন্ন ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের একটি প্রচ্ছন্ন কৌশল। তিনি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ইস্যু সামনে এনে নগর প্রশাসনের সমালোচনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই কৌশল তাঁর আগের নির্বাচনী প্রচারের মতোই, যেখানে তিনি ‘আইন ও শৃঙ্খলা’ ইস্যুকে জোর দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন : Donald Trump | ট্রাম্প বললেন, “আমি যা বলেছিলাম, তা খুবই কার্যকর ছিল, তারা থেমে গিয়েছিল”
অন্যদিকে, ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে ভেন্যু পরিবর্তন করা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এতে বহু দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বদলে যাবে। ফলে শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ফিফার কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের ভেন্যু নির্ধারণের পর সাধারণত তা বদলানো হয় না, যদি না যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো কোনো গুরুতর কারণ থাকে। সুতরাং ট্রাম্পের বক্তব্য রাজনৈতিক দিক থেকে প্রভাব ফেললেও, বাস্তবে তা কার্যকর হবে না বলেই মনে করছেন অধিকাংশ বিশ্লেষক। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ট্রাম্পের এই হুমকি কেবল স্থানীয় রাজনীতিতে নয়, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মহলেও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। কারণ, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ইভেন্টে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করলে তা ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সম্পর্কের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
কিন্তু, ফিফা বা মেয়র মিশেল উ, কেউই এখনও ট্রাম্পের মন্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাননি। মেয়রের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি শহরের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ হিসেবেই দেখছেন। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিষয়টি তীব্রভাবে আলোচিত হচ্ছে। টুইটার (X)-এ “#TrumpThreatensFIFA” হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করছে, যেখানে ফুটবলপ্রেমী ও নাগরিকেরা মতামত দিচ্ছেন, “রাজনীতিকে ফুটবল থেকে আলাদা রাখুন।” যদিও ট্রাম্পের মন্তব্য রাজনৈতিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বাস্তবে ফিফার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে তাদের অবস্থান স্পষ্ট: “খেলাধুলা কোনও রাজনীতির ক্ষেত্র নয়।”
ছবি: সংগৃহীত




