সোমনাথ আচার্য, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ৩২ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইউরোপের মাটিতে ডেভিস কাপের (Davis Cup) মঞ্চে ইতিহাস রচনা করল ভারত। সুইজারল্যান্ডের (Switzerland) ঘরের মাঠে ফেডেরারের (Roger Federer) দেশের বিরুদ্ধে দাপুটে লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ভারতীয় টেনিস দল। এই জয় ভারতকে পৌঁছে দিল ডেভিস কাপ কোয়ালিফায়ারের প্রথম ধাপে।
ভারতের এই সাফল্যের কেন্দ্রে ছিলেন তরুণ টেনিস তারকা সুমিত নাগাল (Sumit Nagal)। দু’টি সিঙ্গলস ম্যাচ জিতে কার্যত তিনি একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিলেন। বিশেষত ফিরতি সিঙ্গলসে নাগালের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিপক্ষ তরুণ সুইস খেলোয়াড় হেনরি বার্নেটকে (Henry Bernet) এক মুহূর্তও দাঁড়াতে দিলেন না নাগাল। স্ট্রেট সেটে ৬-১, ৬-৩ জিতে নিশ্চিত করলেন ভারতের জয়। ম্যাচের পর নাগাল বলেন, “দীর্ঘদিন পর আমরা ইউরোপের মাটিতে জয়ী হলাম। এই জয় আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছিলাম এই টাইয়ের জন্য।” অন্যদিকে, প্রথম দিনে ভারতকে এগিয়ে দেন দক্ষিণেশ্বর সুরেশ (Dakshineshwar Suresh) এবং সুমিত নাগাল। তাঁদের হাতে ভর করে ভারত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তবে ডাবলসে কিছুটা চাপ তৈরি হয়। ভারতীয় জুটি এন শ্রীরাম বালাজি (N Sriram Balaji) ও রিথভিক বোলিপাল্লি (Rithvik Bollipalli) প্রথম সেট জিতলেও শেষ পর্যন্ত সুইস জুটি জ্যাকুব পল (Jakub Paul) ও ডোমিনিক স্ট্রিকার (Dominic Stricker)-এর কাছে ৭-৬ (৩), ৪-৬, ৫-৭ ফলে হেরে যায়। সেই সময় সিরিজে আশা টিকিয়ে রাখে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু নাগালের শেষ সিঙ্গলস জয় কার্যত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিল।
ভারতের এই জয়ে তৈরি হল নতুন অধ্যায়। শেষবার ইউরোপের মাটিতে ভারতীয় টেনিস দল জয় পেয়েছিল ১৯৯৩ সালে। সেবার কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ (Leander Paes) এবং রমেশ কৃষ্ণণ (Ramesh Krishnan) ফ্রান্সকে (France) হারিয়েছিলেন ডেভিস কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। এরপর দীর্ঘ তিন দশক কেটে গেলেও অ্যাওয়ে ম্যাচে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষকে হারাতে পারেনি ভারত। ফলে নাগাল ও সঙ্গীদের এই জয় নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে রইল। আবার গত কয়েক বছরে ভারতীয় টেনিস ধীরে ধীরে নতুন রূপ পাচ্ছে। ২০২২ সালে কোপেনহেগেনে ডেনমার্ককে (Denmark) হারালেও তা হয়েছিল দেশের মাটিতে। কিন্তু এবার সুইজারল্যান্ডের ঘরের মাঠে এমন জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিল। টেনিস বিশেষজ্ঞদের মতে, নাগালের ধারাবাহিকতা ও তরুণদের লড়াই মানসিকতায় ভারত আগামীতে আরও বড় মঞ্চে সাফল্যের দাবি রাখবে।
ভারতের হয়ে যে স্পিরিটে লড়াই হয়েছে, তা প্রতিটি ম্যাচেই স্পষ্ট ছিল। প্রথম সিঙ্গলসে দক্ষিণেশ্বর সুরেশ প্রতিপক্ষকে কোনো রকম সুযোগ দেননি। এরপর নাগালের দাপট ভারতের পক্ষে পরিস্থিতি সহজ করে তোলে। যদিও ডাবলসে হার কিছুটা চাপ বাড়িয়েছিল, তবে শেষ ম্যাচে নাগালের আধিপত্যই লিখে দিল জয়গাথা। প্রসঙ্গত, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে শুরু হবে ডেভিস কাপ কোয়ালিফায়ারের প্রথম রাউন্ড। সেখানে খেলতে নামবে ভারত। সামনের টুর্নামেন্ট নিয়ে ভারতীয় দল ইতিমধ্যেই আত্মবিশ্বাসী। নাগাল জানিয়েছেন, “আমরা ধাপে ধাপে এগোতে চাই। এই জয় আমাদের আরও প্রেরণা জোগাবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India vs Pakistan Handshake Controversy, Suryakumar Yadav Statement | ভারত-পাক ম্যাচে হ্যান্ডশেক বিতর্কে সূর্যের স্পষ্ট জবাব: খেলোয়াড়ি মানসিকতা নয়, দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা বড়




