সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : ভারতীয় উপমহাদেশে মৌসুমি অস্থিরতা ফের ঘনীভূত হয়েছে। বঙ্গোপসাগর থেকে উঠে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ (Cyclone Montha) দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও তার প্রভাব এখনও থামেনি। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (India Meteorological Department – IMD) জানিয়েছে, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও অন্ধ্রপ্রদেশে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কয়েকটি রাজ্যে রেড, কমলা ও হলুদ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।
তেলেঙ্গানার পরিস্থিতি বর্তমানে সবচেয়ে উদ্বেগজনক। রাজন্না সিরসিলা, করিমনগর, মাহাবুবাবাদ, ওয়ারাঙ্গল, হনুমাকোন্ডা, জঙ্গাঁ, সিদ্দিপেট এবং যাদাদ্রি ভুবনগিরি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে লাল সতর্কতা জারি করেছে আইএমডি (IMD)। আবহাওয়াবিদদের মতে, ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে থাকতে পারে বজ্রপাত ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনা। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য এনডিআরএফ (NDRF) দল মোতায়েন করেছে।কোমুরাম ভীম আসিফবাদ, আদিলাবাদ, মানচেরিয়াল, নির্মল, জাগতিয়াল, পেদ্দাপল্লী ও সূর্যপেটের মতো জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিজামাবাদ, মুলুগু, খাম্মাম ও রাঙ্গারেডি জেলায় ইয়েলো অ্যালার্ট জারি করে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে ঘূর্ণিঝড় মন্থা’র প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা দিতে শুরু করেছে। দক্ষিণবঙ্গের ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর ও হাওড়া জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়া বইছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, ২৯ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। আইএমডি জানিয়েছে, ১ নভেম্বরের পর আবহাওয়া ধীরে ধীরে উন্নতি হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার, দার্জিলিং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে এবং বৃষ্টি কমবে।

অন্ধ্রপ্রদেশেও পরিস্থিতি চিন্তাজনক। প্রকাসাম, নেলোর, গুন্টুর, বাপটলা, কৃষ্ণা, পশ্চিম গোদাবরী এবং শ্রীকাকুলামে কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। উপকূলবর্তী এলাকায় মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে না যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে নদী ও সমুদ্রের তীরবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিহার ও ঝাড়খণ্ডেও শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমে ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাপক বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। ওড়িশা, ছত্তিশগড় ও পূর্ব মধ্যপ্রদেশেও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। গুজরাটে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষত সৌরাষ্ট্র ও কচ্ছ অঞ্চলে।
ঘূর্ণিঝড় মন্থা’র বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, এটি ১৯.৬° উত্তর অক্ষাংশ ও ৮০.৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের কাছাকাছি কেন্দ্রীভূত, যা কাঁকের (Kanker) থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং নাগপুর (Nagpur) থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। এটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টায় আরও দুর্বল হতে পারে বলে জানিয়েছে আইএমডি। আবহাওয়া অফিসের এক সিনিয়র অধিকর্তা বলেন, “ঘূর্ণিঝড় মন্থা ধীরে ধীরে শক্তি হারাচ্ছে, কিন্তু এর প্রভাবে পূর্ব ও মধ্যভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।”
ভারত সরকারের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগও নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষত, সমুদ্র, নদীর তীরবর্তী ও নিম্নভূমি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্থ রেড্ডি (Revanth Reddy) রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন যে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের প্রভাব সর্বত্র দেখা যাচ্ছে। পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে ফসল কাটার মরশুমে এই বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী




