Chandrayaan-2 images, ISRO radar data | চাঁদের না দেখা রূপে অবাক বিশ্ব! চন্দ্রযান-২ পাঠাল অভূতপূর্ব ছবি, মিলল চাঁদের অন্তর্গঠনের নতুন রহস্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে আবারও এক গৌরবময় অধ্যায় রচনা করল ইসরো (ISRO)। চন্দ্রযান-২ (Chandrayaan-2) অভিযানের পাঠানো নতুন ছবি এবং তথ্য বিশ্বের বিজ্ঞানমহলে সৃষ্টি করেছে তোলপাড়। চাঁদের এমন কিছু অংশের দৃশ্য এবার প্রথমবার সামনে এসেছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই তথ্য ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানের গবেষণায় এক বিশাল মাইলফলক হতে চলেছে।

ইসরোর আহমেদাবাদ স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের (Space Applications Centre) বিজ্ঞানীরা চন্দ্রযান-২-এর ডুয়েল ফ্রিকোয়েন্সি সিন্থেটিক অ্যাপারচার র‌্যাডার (DFSAR) থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করেছেন চাঁদের প্রথম পূর্ণ পোলারেমেটিক ও এল-ব্যান্ড র‌্যাডার ম্যাপ। এই প্রযুক্তি শুধু চাঁদের পৃষ্ঠ নয়, তার নিচের স্তর, সাবসারফেস, সম্বন্ধেও বিস্তারিত ধারণা দিতে সক্ষম। অর্থাৎ, চাঁদের গায়ে দেখা ‘কালো দাগ’গুলির আড়ালে যে ভূতাত্ত্বিক গোপন রহস্য লুকিয়ে আছে, তা এবার উদঘাটনের পথে। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে চন্দ্রযান-২ প্রায় ১৪০০ র‌্যাডার ডেটাসেট সংগ্রহ করেছে। এই বিপুল তথ্যভাণ্ডারের বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারছেন চাঁদের মাটির ঘনত্ব, তার পৃষ্ঠের শক্তভাব, এমনকি সেখানে কোথাও বরফের অস্তিত্ব আছে কি না। নিজেদের তৈরি বিশেষ অ্যালগরিদম ও অ্যাডভান্সড ডেটা প্রসেসিং টুল ব্যবহার করে ইসরোর বিজ্ঞানীরা এখন চাঁদের ভূত্বক ও অভ্যন্তরের রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কেও ধারণা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস (আজ একুশ-তম কিস্তি)

ইসরোর এক সিনিয়র বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, “চন্দ্রযান-২ আমাদের কল্পনার চেয়েও বেশি তথ্য এনে দিয়েছে। চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে যে ধরনের রেডিও প্রতিফলন দেখা গিয়েছে, তা জল-বরফের উপস্থিতির সম্ভাবনাকে আরও দৃঢ় করছে।” উল্লেখ্য, চন্দ্রযান-২-এর এই সাফল্য ভারতের ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযানে নতুন দিক খুলে দিয়েছে। মনে করিয়ে দেওয়া যায়, ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করেছিল, যদিও তার ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ (Vikram) শেষ মুহূর্তে অবতরণে ব্যর্থ হয়। কিন্তু সেই অরবিটার এখনও পর্যন্ত অক্ষত থেকে চাঁদের চারপাশে ঘুরছে এবং তথ্য পাঠাচ্ছে, যা এক কথায় এক বিস্ময়। ইসরো জানিয়েছে, এই তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদের মেরু অঞ্চলের গঠন, জলীয় উপাদান, এবং সৌরজগতের প্রাচীন রাসায়নিক উপাদান সম্পর্কেও অনেক অজানা দিক উন্মোচিত হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চল এমন একটি জায়গা যেখানে সৌরজগতের প্রথম যুগের রাসায়নিক চিহ্ন এখনো সংরক্ষিত থাকতে পারে। অর্থাৎ, এই অঞ্চলের বিশ্লেষণ সৌরজগতের উৎপত্তি ও বিকাশের ইতিহাস বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে।

 

চন্দ্রযান-২-এর পাঠানো ছবিগুলিতে দেখা গিয়েছে চাঁদের মাটির গভীর খাদ, পাথুরে উঁচু অঞ্চল, এবং সূক্ষ্ম গহ্বরের নেটওয়ার্ক- যা ইঙ্গিত দিচ্ছে বহু কোটি বছরের আগ্নেয়ক্রিয়ার ইতিহাসের। বিজ্ঞানীরা বলছেন, র‌্যাডার ইমেজিং-এর মাধ্যমে এমন জায়গাগুলিও দেখা সম্ভব হয়েছে যেখানে সূর্যের আলো কখনও পৌঁছায় না। সেই ‘ছায়াচ্ছন্ন অঞ্চল’গুলিতেই হয়তো রয়েছে জমাট বরফের আস্তরণ। ইসরো চেয়ারম্যান এস সোমনাথ (S. Somanath) জানিয়েছেন, “চন্দ্রযান-২ এখন ভারতের এক অমূল্য সম্পদ। এর পাঠানো ডেটা শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের সব লুনার মিশনের ভিত্তি হয়ে থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3) সফলভাবে অবতরণ করেছে। এবার চন্দ্রযান-২-এর বিশ্লেষিত তথ্য দিয়ে আমরা আরও গভীর গবেষণার পথে এগোব।”

ভারত ইতিমধ্যেই আগামী লুনার মিশনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, চাঁদের এই নতুন র‌্যাডার ম্যাপ ভবিষ্যতের ল্যান্ডিং সাইট নির্বাচন এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষত, চাঁদের সেইসব অঞ্চল যেগুলি চিরকাল অন্ধকারে ঢাকা, সেগুলি নিয়ে নতুন মিশনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানমহল এখন চন্দ্রযান-২-এর পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করছে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা (NASA) থেকেও প্রশংসা এসেছে ইসরোর এই সাফল্যের। তাদের মতে, “ভারতের র‌্যাডার ইমেজিং প্রযুক্তি ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণায় এক নতুন মান স্থাপন করবে।” অন্যদিকে, চন্দ্রযান-২ আবারও প্রমাণ করল, চাঁদের রহস্য উদঘাটনে ভারত এখন শীর্ষ সারির মহাকাশ শক্তি। কালো দাগ নয়, চাঁদের বুক আসলে এক বিশাল বৈজ্ঞানিক খনি, যার দরজা খুলে দিয়েছে ভারতীয় বিজ্ঞানীদের হাত।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : NASA’s ESCAPADE Mars Mission to Launch on Blue Origin’s New Glenn Rocket | মঙ্গলের পথে নাসার যুগল মহাকাশযান, নিউ গ্লেন রকেটে ইতিহাস গড়ছে ব্লু অরিজিন

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন