বিনীত শর্মা ★ নতুন দিল্লি: দীর্ঘ ১৬ বছরের বিরতির পর অবশেষে দেশে ফের শুরু হতে চলেছে জাতীয় জনগণনার (Census) কাজ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) রবিবার নতুন দিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেন। দেশে শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। এর পর ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও অতিমারির কারণে তা পিছিয়ে যায়। অবশেষে ২০২৭-এর মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রক্রিয়া। এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যেখানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন (Govind Mohan), ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও আদমশুমারি কমিশনার মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ (Mrutyunjay Kumar Narayan) সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের শীর্ষকর্তারা। সোমবার এই সংক্রান্ত একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সেই কারণেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে তৎপরতা দেখিয়েছে কেন্দ্র।
এ-বিষয়ে অমিত শাহ বৈঠকে বলেন, “এই আদমশুমারি হবে দেশের নীতিগত পরিকল্পনার ভিত্তি। সরকারের নীতি গ্রহণ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প বাস্তবায়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।” তিনি আরও বলেন, “যথাযথ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহে আধুনিক প্রযুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট দিশানির্দেশ জরুরি।”
কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে গোটা দেশে একযোগে শুরু হবে আদমশুমারির কাজ। তবে হিমালয়ঘেরা লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের মতো তুষারপ্রবণ অঞ্চলে ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে, কারণ মার্চে এই অঞ্চলগুলো বরফে ঢেকে থাকে তার ফলে কাজ ব্যাহত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ১০ বছর অন্তর একবার জনগণনা হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ২০১১ সালের পর ২০২১-এর আদমশুমারি পিছিয়ে যাওয়ায় এই নিয়মে ব্যত্যয় ঘটে। এখন ২০২৭-এ যে জনগণনা হতে চলেছে, সেটিই হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) সরকারের আমলে প্রথম আদমশুমারী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক বলেন, “জনগণনা কেবল জনসংখ্যার হিসেব রাখার বিষয় নয়, এটি হল একটি আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোর ভিত্তি নির্মাণের প্রক্রিয়া। নতুন আদমশুমারিতে জাতি (Caste) এবং জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত তথ্যও সংগ্রহ করা হবে। এই সংক্রান্ত তথ্য ২০২৮ সালের মধ্যেই প্রকাশিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।”
এই আদমশুমারিতে দু’টি পর্যায়ে কাজ চলবে বলে জানা যায়। প্রথম ধাপে হবে গৃহতালিকা (House Listing) ও গৃহভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ, দ্বিতীয় ধাপে হবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ। ইতিমধ্যেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডেটা সংগ্রহের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। একটি আধুনিক সফটওয়্যার সিস্টেম তৈরি হচ্ছে, যাতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেই তথ্য সংগ্রহ করা যায়। এমনকী সংশ্লিষ্ট তথ্য ডিজিটাল ফর্মে আপলোড করার সুযোগও থাকবে।রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ জানান, “আমরা চেষ্টা করছি এই আদমশুমারিকে সর্বাধিক আধুনিক এবং তথ্যভিত্তিক করতে। তথ্যের গুণমান ও নির্ভুলতা বজায় রাখা হবে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই জনগণনার প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা, বাসস্থান পরিকল্পনা, এবং কর্মসংস্থানের নীতিতে। পাশাপাশি, জাতিগত তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির বাস্তব অবস্থাও উঠে আসবে সামনে। এতে করে সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প গঠনে আরও কার্যকর হবে সরকার।এতবড় পরিসরের কাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রশাসনিক মহলের। আগামী দিনে প্রশিক্ষণ, লোকবল নিয়োগ ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো নির্মাণের ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফের একবার জনসমীক্ষার পালা। এক দশকের বেশি সময় ধরে বদলে যাওয়া দেশের গঠন ও পরিস্থিতির চিত্র এবার উঠে আসবে এই জনগণনার মাধ্যমে। সেদিক থেকে দেখলে, এই আদমশুমারি শুধু এক প্রশাসনিক কাজ নয়, বরং গোটা দেশের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের মাপকাঠিও বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ছবি : আমিত শাহ-এর X-হ্যান্ডেল
আরও পড়ুন : Narendra Modi Foreign Tour | ত্রিদেশীয় মঞ্চে কূটনৈতিক বার্তা, জি-৭ সম্মেলনে অংশ নিতে কানাডা সফরে মোদী




