শোভনা মাইতি, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: ইডেন গার্ডেন্সে আর শোনা যাবে না ক্যারিবিয়ান ঝড়ের গর্জন। বেগুনি জার্সিতে কয়েক ওভারের মধ্যেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার সেই পরিচিত দৃশ্য হয়তো আর দেখা যাবে না। আন্দ্রে রাসেল (Andre Russell) খেলোয়াড় হিসেবে কলকাতা নাইট রাইডার্সে থাকছেন না। তবে নাইট শিবিরে তাঁর প্রভাব এখনও অটুট, কোচিং স্টাফের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তিনি থাকছেন। কিন্তু প্রশ্ন ছিল একটাই, মাঠে রাসেলের জায়গা কে নেবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল আবু ধাবির আইপিএল মিনি নিলামে। ইতিহাস গড়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সে (Kolkata Knight Riders) এলেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green)।
আইপিএলের নিলাম মানেই টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এ দিনের নিলামে গ্রিনকে ঘিরে যে নাটকীয়তা তৈরি হয়েছিল, তা অনেক দিন মনে রাখবে ক্রিকেটবিশ্ব। মাত্র ২ কোটি টাকা বেস প্রাইস নিয়ে নিলামে নামলেও শুরু থেকেই একাধিক দলের চোখ ছিল তাঁর দিকে। প্রায় সাড়ে ৬৪ কোটি টাকা পার্স নিয়ে নিলামে নামা কেকেআর প্রথম থেকেই গ্রিনকে টার্গেট করেছিল। শুরুতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru) ও রাজস্থান রয়্যালস (Rajasthan Royals) লড়াইয়ে থাকলেও, চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings) ঢুকতেই দর হাঁকায় নতুন গতি আসে। একটার পর একটা বিড ওঠে, নিলাম কক্ষে নিস্তব্ধতা ভেঙে উত্তেজনা ছড়ায়। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও পিছু হটেনি কলকাতা নাইট রাইডার্স। শেষ পর্যন্ত ২৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় ক্যামেরন গ্রিনকে তুলে নেয় বেগুনি ব্রিগেড। এর সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয়ে যায় ইতিহাস। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি ক্রিকেটার এখনও শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer), যাঁকে গত মরসুমে ২৬ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় নিয়েছিল পাঞ্জাব কিংস (Punjab Kings)। তবে বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড এবার গ্রিনের দখলে।
মজার বিষয়, আগের রেকর্ডটিও ছিল কেকেআরেরই। ২০২৪ সালের নিলামে মিচেল স্টার্ককে (Mitchell Starc) ২৪ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকায় কিনেছিল কলকাতা। সেই সময় দলের মেন্টর ছিলেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। এবার গ্রিন সেই রেকর্ড ছাপিয়ে গেলেন, আর আবারও আলোচনার কেন্দ্রে কেকেআর। কেন গ্রিনই রাসেলের বিকল্প? এই প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে পরিসংখ্যানে এবং দক্ষতায়। ২০২৩ সালে আইপিএলে প্রথমবার খেলতে নেমেই নজর কেড়েছিলেন ক্যামেরন গ্রিন। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) হয়ে ৪৫২ রান করেছিলেন তিনি, সঙ্গে নিয়েছিলেন ৬টি উইকেট। পরের মরসুমে আরসিবিতে খেলতে গিয়ে ব্যাটে কিছুটা কম উজ্জ্বল হলেও বল হাতে কার্যকর ছিলেন, ২৫৫ রানের সঙ্গে ১০টি উইকেট। মাঝের একটি মরসুমে পিঠের গুরুতর চোটের জন্য অস্ত্রোপচার করাতে হয় তাঁকে, ফলে আইপিএল থেকে দূরে থাকতে হয়। তবু তাঁর সামর্থ্য নিয়ে কোনও সন্দেহ ছিল না।
পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে গ্রিনের ক্ষমতা ঠিক সেই জায়গাতেই, যেখানে কেকেআর রাসেলের অভাব অনুভব করছিল। লম্বা ছক্কা হাঁকানোর ক্ষমতা, মাঝের ওভারে দ্রুত রান তোলা এবং প্রয়োজন পড়লে পেসে উইকেট নেওয়া— এই তিনটি গুণই তাঁকে রাসেলের ভূমিকায় সবচেয়ে উপযুক্ত করে তুলেছে। নাইট শিবিরের অন্দরমহলে এমনটাই মনে করা হচ্ছিল। নিলামের পর কেকেআরের সিইও ভেঙ্কি মাইসোর (Venky Mysore) স্পষ্ট করে বলেন, ‘গ্রিনের মতো একজন অলরাউন্ডারই আমাদের দরকার ছিল। আমরা জানতাম, ওকে নিতে গেলে লড়াই হবে। যে দামে ওকে পেয়েছি, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। তবে একই সঙ্গে আমাদের মাথায় রাখতে হয়েছিল যাতে দর অযথা চড়ে না যায়, কারণ সেটা পুরো নিলাম প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারত।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আন্দ্রে রাসেল আমাদের দলের পাওয়ার কোচ। গ্রিনের মতো একজন তরুণ অলরাউন্ডারকে দলে পেয়ে রাসেলও নিশ্চয়ই খুশি হবেন। ব্যাট আর বল, দু’দিকেই গ্রিন কী করতে পারে, তা আমরা সবাই জানি।’ নাইট শিবিরের সমর্থকদের মধ্যেও এই নিয়ে উন্মাদনা তুঙ্গে। অনেকের কাছেই গ্রিন মানেই ভবিষ্যতের সুপারস্টার। আবার কেউ কেউ বলছেন, এত বড় অঙ্কের চাপ সামলাতে পারাই হবে তাঁর আসল পরীক্ষা। তবে কেকেআর যে ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এই বিনিয়োগ করেছে, তা স্পষ্ট।উল্লেখ্য, আন্দ্রে রাসেলের ছায়া থেকে বেরিয়ে এসে ক্যামেরন গ্রিন কতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেন, সেটাই এখন দেখার। বেগুনি জার্সিতে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন তিনি। আইপিএলের ইতিহাসে এই দলবদল যে অন্যতম স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Rohit Sharma Test Comeback News | কোহলি-রোহিত কি ফিরছেন টেস্টে? দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ পর নড়েচড়ে বসেছে বিসিসিআই




