বিনীত শর্মা ★ সাশ্রয় নিউজ : নতুন দিল্লি : চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই নিজেদের আর্থিক ভিত মজবুত করতে জমি বিক্রি বা লিজ়ের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL – Bharat Sanchar Nigam Limited) ও মহানগর টেলিফোন নিগম লিমিটেড (MTNL – Mahanagar Telephone Nigam Limited)। কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রের খবর, এই জমি থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা তারা সংগ্রহ করতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই সংস্থা আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই ঋণভার কমানো ও নগদ জোগানের দিশায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র মারফৎ জানা যায়।
সূত্রের আরও খবর, কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীন পাবলিক এন্টারপ্রাইজ়েস ডিপার্টমেন্ট (Public Enterprises Department) এই জমিগুলি বিক্রি বা লিজ় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। একজন সরকারি আধিকারিক বলেন, “বিএসএনএল-এর অন্তত দু’টি জমি এই মুহূর্তে বিক্রির জন্য বিবেচিত হচ্ছে। এই জমিগুলির আনুমানিক মূল্য হাজার কোটি টাকার আশেপাশে। জমিগুলি থেকে অর্থ তোলার লক্ষ্য এই অর্থবর্ষেই পূরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।” এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, যদিও সরকারি ভাবে জমিগুলির অবস্থান বা আয়তন এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির মতে, এগুলি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেই অবস্থিত। সেই কারণে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের অভাব হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এত সহজ নয় এই পরিকল্পনা কার্যকর করা। জমি সংক্রান্ত জটিলতা, বিশেষত মালিকানার নথিপত্র ও রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র, এই সমস্ত কিছুর ওপর নির্ভর করছে প্রক্রিয়ার গতি। কেন্দ্রীয় আধিকারিক আরও বলেন, “জমির বিষয়টি রাজ্যের এক্তিয়ারে পড়ে। নথি নিশ্চিত করা, লিগ্যাসি টাইটেল সমস্যা মেটানো ও স্থানীয় প্রশাসনের ছাড়পত্র পাওয়া এই সব পদক্ষেপ শেষ করতেই সময় লাগবে। এক বছরের মধ্যেই এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হবে এমনটা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।”
বিশ্লেষক মহলের মতে, বিএসএনএল ও এমটিএনএল-এর মূল সমস্যা দীর্ঘদিনের গঠনগত দুর্বলতা। যেমন, গ্রাহক হারানো, অত্যধিক কর্মীসংখ্যা, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব ও চলতি খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এমটিএনএল ইতিমধ্যেই সাতটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ৮,৩৪৬ কোটি টাকার ঋণ খেলাপ করেছে। যার ফলে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত তাদের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা। বিএসএনএল-ও খুব পিছিয়ে নেই, তাদের ঋণভার ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত পৌঁছেছে ২৩,২৯৭ কোটি টাকায়। এই পরিস্থিতিতে জমি বিক্রি বা লিজ় দেওয়ার মাধ্যমে যে সাময়িক আর্থিক রসদ মিলতে পারে, তা হলেও মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান এ নয় এমনটাই মত বিশ্লেষকদের অর্থনীতিবিদদের মতে, “এই উদ্যোগ শুধু হয়ত নগদ অর্থ আনবে, কিন্তু সংস্থাগুলির মূল কাঠামোগত সংস্কার না হলে টিকে থাকা কঠিন।”
যদিও কেন্দ্র জানাচ্ছে, জমি বিক্রির পাশাপাশি কর্মী সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও পরিষেবার আধুনিকীকরণেও মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, এত দেরিতে এই পরিকল্পনা কেন? এবং জমি বিক্রির মতো অস্থায়ী সমাধানেই বা কতটা ভরসা করা যায়? এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার কতটা দ্রুততার সঙ্গে জমি বিক্রির এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে ও বিএসএনএল ও এমটিএনএল কতটা কার্যকরভাবে এই অর্থ নিজেদের পুনরুদ্ধারে কাজে লাগাতে সক্ষম হয়।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi BRICS Summit 2025 | বিশ্ব স্বাস্থ্য আর পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে চলতে হবে: ব্রিকস মঞ্চে মোদীর বার্তা




