Britain | পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম যুদ্ধবিমান কিনছে ব্রিটেন
সাশ্রয় নিউজ ★ লন্ডন : বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা পারমাণবিক উত্তেজনার আবহে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল ব্রিটেন (Britain)। তারা যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অন্তত ১২টি এফ-৩৫এ (F-35A) যুদ্ধবিমান কিনছে। বিয়ামানগুলি পরমাণু বোমা বহন করতে সক্ষম। বুধবার নেদারল্যান্ড্সের (Netherlands) দ্য হেগ (The Hague) শহরে ন্যাটো (NATO) সামিটে এই ঘোষণা করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)। এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। স্টার্মার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এই চরম অনিশ্চয়তার যুগে আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে আর হালকা ভাবে নিতে পারি না। আমাদের সরকার ব্রিটেনের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিনিয়োগ করছে।” তাঁর মতে, শুধুমাত্র প্রতিরক্ষার জন্য নয়, আন্তর্জাতিক বন্ধুত্ব বজায় রাখতে এবং সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলাতেও এই ধরনের উদ্যোগ জরুরি।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে সূত্রে খবর, যুদ্ধবিমানগুলি আমেরিকার তৈরি ও বর্তমানে প্রচলিত অস্ত্রের সঙ্গে সঙ্গে পরমাণু বোমা বহনের ক্ষমতাও রাখে। ব্রিটেনের বায়ুসেনা রয়্যাল এয়ার ফোর্স (Royal Air Force)-এর হাতে গেলে এই বিমানগুলি নতুন যুগের সূচনা করবে বলেই মনে করছেন স্টার্মার। তাঁর কথায়, “আমাদের সামরিক বাহিনী যাতে নিজেদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পায়, তা নিশ্চিত করছে আমার সরকার।” তাঁর এই ঘোষণার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। স্টার্মার দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে নয়, শান্তি এবং স্থিতাবস্থাকে রক্ষার প্রয়াস। তাঁর মতে, “বিশ্ব যখন এক অস্থির ও বিপজ্জনক সময়ে প্রবেশ করছে, তখন কেবল আশা নয়, প্রস্তুতিও সমান জরুরি।”
বস্তুত, এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ইতিহাস। সংবাদ সংস্থা এপি (AP)-র তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে ঠান্ডা যুদ্ধ (Cold War) শেষ হওয়ার পর থেকে ব্রিটেন ধীরে ধীরে আকাশপথে পরমাণু হামলার ক্ষমতা তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে তাদের হাতে থাকা সমস্ত পারমাণবিক অস্ত্রই মূলত ডুবোজাহাজ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আকারে রয়েছে। এই নতুন যুদ্ধবিমানগুলি সেই ব্যবস্থার বাইরে গিয়েই আকাশপথে পরমাণু প্রতিশোধের শক্তি ফিরিয়ে আনবে। বিশ্বের তিনটি রাষ্ট্র আমেরিকা (United States), ব্রিটেন (Britain) এবং ফ্রান্স (France) বর্তমানে পারমাণবিক শক্তিধর সদস্য। কিন্তু তাদের বাইরে আরও চারটি দেশ জড়িত রয়েছে এই জোটের পরমাণু কর্মসূচিতে। সেই চারটি রাষ্ট্র আমেরিকার তৈরি পরমাণু অস্ত্র বহনে সহায়তা করে। তবে সেই অস্ত্রের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ থাকে শুধুমাত্র ওয়াশিংটনের (Washington) হাতে।এখানেই উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, ব্রিটেন কি এবার নিজস্ব পরমাণু বোমা যুদ্ধবিমানে ব্যবহার করবে? আন্তর্জাতিক সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রিটেনের হাতে নিজস্ব এমন কোনও পারমাণু অস্ত্র নেই যা আকাশপথে হামলার জন্য তৈরি। কিন্তু এই নতুন বিমান কেনা মানে কি সেই অভাব পূরণের পরিকল্পনা? যদিও ব্রিটিশ সরকার এই বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি, তবে এই সিদ্ধান্ত যে নেটোর পরমাণু দিকপালদের সঙ্গে তাদের সমন্বয় আরও মজবুত করবে, তা বলাই যায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রযুক্তিগত নয়, কূটনৈতিক বার্তাও বটে। সাম্প্রতিক রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, উত্তর কোরিয়ার হঠাৎ হঠাৎ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা সব মিলিয়ে বিশ্ব অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। ব্রিটেনের এই পদক্ষেপ সেই জটিল পরিস্থিতিকে মাথায় রেখেই বলে মনে করছেন তাঁরা।
প্রতিরক্ষা গবেষক ক্রিস্টোফার লোয়েড (Christopher Lloyd) বলছেন, “এটা নিছক যুদ্ধবিমান কেনা নয়, এটা একটি ভূরাজনৈতিক বার্তা। ব্রিটেন তার অস্তিত্ব ও বন্ধু রাষ্ট্রদের প্রতিরক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। নেটোর মধ্যে এই ঘোষণা আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াবে, এবং ইউরোপে এক নতুন কৌশলগত ভারসাম্য গড়ে তুলবে।” তবে সমালোচনার সুরও শোনা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একটি অংশ বলছে, ব্রিটেনের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময় এই ধরনের বিশাল সামরিক খরচ কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিন্তু স্টার্মার সেই যুক্তিকে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তাঁর মতে, “জাতীয় নিরাপত্তা কখনও বিলাসিতা নয়। এটা একান্ত প্রয়োজনীয়তা।” সব মিলিয়ে, ব্রিটেনের এই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত শুধু এক দেশের প্রতিরক্ষা নয়, গোটা নেটো জোট ও বৃহত্তর বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অনিশ্চয়তার এই বিশ্বে শক্তি প্রদর্শন এবং প্রস্তুতির এই বার্তা কতটা কার্যকর হয়, সে উত্তর সময়ই দেবে।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : Britain’s Abortion Act : ভিক্টোরিয়ান আইন ভাঙছে ব্রিটেন, গর্ভপাত অপরাধ নয়, নারীর অধিকারে নয়া অধ্যায়




