Blake Lively, Justin Baldoni | টেইলর সুইফটের ব্যক্তিগত বার্তা রক্ষায় মরিয়া ব্লেক লাইভলি,

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নিউ ইয়র্ক: হোলিউডের দুই তারকা ব্লেক লাইভলি (Blake Lively) ও জাস্টিন ব্যালডোনি (Justin Baldoni)-র মধ্যে আইনি লড়াই ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে। যদিও ব্যালডোনির করা ৪০০ মিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা সম্প্রতি খারিজ করেছে আদালত, তবে থেমে নেই মামলা-পাল্টা মামলার ঝড়। এইবার ব্লেক লাইভলি আদালতের দ্বারস্থ হলেন টেইলর সুইফট (Taylor Swift)-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত বার্তা যাতে জাস্টিন ব্যালডোনির আইনজীবীরা না পান, তা নিশ্চিত করতে। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের আদালতে দাখিল করা এক আইনি আবেদনে লাইভলির আইনজীবীরা ‘প্রোটেক্টিভ অর্ডার’ চেয়ে জানান, “এই বার্তাগুলোর সঙ্গে চলমান মামলার কোনও সম্পর্ক নেই। এগুলি নিয়ে অযথা ট্যাবলয়েড প্রচার চালানো হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, ব্যালডোনির আইনজীবীরা এর আগে সুইফট ও তাঁর আইনজীবীদের সাবপোনা পাঠিয়েছিলেন, সিনেমা It Ends With Us-এর প্রযোজনার সঙ্গে তাঁর কথিত “ক্রিয়েটিভ ইনফ্লুয়েন্স”-এর অভিযোগ তুলে। যদিও গত মাসে সেই অভিযোগ হঠাৎ করেই তুলে নেওয়া হয়, যখন সুইফটের পক্ষ থেকে এটিকে “অযৌক্তিক ফিশিং এক্সপিডিশন” বলে প্রতিবাদ করা হয়। লাইভলির পক্ষে অ্যাটর্নি এসরা হাডসন (Esra Hudson) বলেন, “এই মামলায় সুইফটের কোনও ভূমিকা নেই। তাঁকে এভাবে জড়ানো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, ট্যাবলয়েড শিরোনামে থাকতে চাওয়া ছাড়া আর কোনও উদ্দেশ্য নেই।”

‘People’ ম্যাগাজিনের থেকে আসা এক চিঠি অনুযায়ী, ব্যালডোনির সংস্থা Wayfarer Parties এখনও সুইফট ও লাইভলির বার্তা পেতে মরিয়া হলেও, লাইভলির পক্ষেও যে গুরুত্বপূর্ণ নথি রয়েছে, তা দিতে অস্বীকার করেছে। এর মধ্যেই একটি ই-মেল সামনে আসে, যেখানে সুইফটের আইনজীবী ডগ ব্যালড্রিজ (Doug Baldridge) জানাচ্ছেন, “কোনও নথি জমা দেওয়া হয়নি ও কোনও ডিপোজিশনের কথাও হয়নি।” অথচ ব্যালডোনির পক্ষে আইনজীবী ব্রায়ান ফ্রিডম্যান (Bryan Freedman) দাবি করেছিলেন, “আমরা ঠিক তাই পেয়েছি, যা চেয়েছিলাম।” আইনজীবীদের পাল্টা বিবৃতি ছাড়াও, বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন সামনে আসে এক নৈশভোজের প্রসঙ্গ, যেখানে রায়ান রেনল্ডস (Ryan Reynolds) ও টেইলর সুইফটের উপস্থিতিতে সিনেমার এক রুফটপ দৃশ্য নিয়ে ব্যালডোনিকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠে। এমনকী, সেই বৈঠকের পর লাইভলি নাকি সুইফট ও রেনল্ডসকে ‘ড্রাগন’ বলেও কটাক্ষ করেন, যা Game of Thrones-এর প্রসঙ্গ টেনে তোলার ইঙ্গিত দেয়। গত সোমবার ব্যালডোনির অন্যতম বড় আইনি পরাজয় ঘটে। যখন নিউ ইয়র্কের ফেডারেল জজ লুইস লিমান (Lewis Liman) তাঁর করা মানহানি ও ব্ল্যাকমেল মামলা খারিজ করে দেন। সেই মামলায় ব্লেক লাইভলি, রায়ান রেনল্ডস, তাঁদের পাবলিসিস্ট এবং The New York Times এর নামও ছিল। লাইভলির মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, “বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকাকে (Taylor Swift) বারবার মামলায় টেনে এনে প্রচার পাওয়ার চেষ্টা এই মামলার বিপজ্জনক অবক্ষয়ের দৃষ্টান্ত। এটা শুধু আইনি ব্যর্থতা থেকেই মন ঘোরানোর কৌশল।”

এই প্রসঙ্গে, ব্লেক লাইভলির পক্ষ থেকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সামনে এসেছে। তাঁরা এখন সুইফটের প্রাক্তন ম্যানেজার স্কুটার ব্রাউন (Scooter Braun) ও তাঁর কেপপ সংস্থা HYBE-এর বিরুদ্ধে সাবপোনা জারির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, মনে করা হচ্ছে সুইফটকে পুরোপুরি মামলার বাইরে রাখতে তাঁরা এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন। ব্লেক লাইভলির দায়ের করা হেনস্থা ও প্রতিশোধমূলক মামলাটি আদালতে এখনও চলছে। তাঁর দাবি, ব্যালডোনি ও তাঁর পাবলিসিস্টরা একটি পরিকল্পিত smear campaign চালাচ্ছেন তাঁর বিরুদ্ধে। লাইভলির অ্যাটর্নি স্পষ্টভাবে জানান, “Ms. Swift-কে নিয়ে একমাত্র যে অভিযোগ ছিল, তা এখন বাতিল হয়েছে। আমাদের আপডেট করা মামলায় তাঁর নাম একবারের জন্যও উল্লেখ নেই।” এই আইনি কাহিনির জল কতদূর গড়াবে, তা সময় বলবে। তবে টেলিভিশনের গসিপ গার্ল হয়েও বাস্তবের আদালতে ব্লেক লাইভলির এই লড়াই স্পষ্ট করছে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাদার দ্বন্দ্বের দড়ির টান কতটা কঠিন হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Kim Kardashian | Donald Trump : কিম কার্দাশিয়ানের ‘অমানবিক’ মন্তব্য! ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র পাল্টা প্রশ্ন: ‘কে থাকবে, বলুন?’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন