সংবেদন শীল, সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি, ১৩ অক্টোবর : বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগেই জাতীয় জনমঞ্চ প্রস্তুত হচ্ছে কীভাবে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠল ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (NDA)-এর আসনবণ্টন চুক্তি প্রকাশিত হওয়ার পর। জানা যায়, উপেন্দ্র কুশওয়াহার (Upendra Kushwaha) নেতৃত্বাধীন রাশট্রিয়া লোক মোর্চা (RLM) মাত্র ৬টি আসন পেয়েছে এই গোটবাঁধনায়। এই সংকীর্ণ আসনসংখ্যাই আজ কুশওয়াহাকে অনুষোচনা ও ক্ষমা প্রার্থনায় নামিয়ে আনেছে।
রবিবার X (পূর্বের Twitter)-এ দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে কুশওয়াহা লিখেছেন, ‘আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। আসন সংখ্যা আপনার প্রত্যাশা অনুযায়ী হতে পারেনি। আমি বুঝতে পারছি যে সিদ্ধান্তটি হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষের হৃদয়ে আঘাত করবে, যার মধ্যে সেই সহকর্মীরাও রয়েছেন যারা আমাদের দলের প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন।’ তিনি আরও যুক্ত করেছেন, ‘আজ অনেক বাড়িতে হয়তো খাবার রান্না হয়নি। তবে, আমি নিশ্চিত আপনারা আমাদের সীমাবদ্ধতা এবং কঠিন বাস্তবতা বুঝতে পারবেন। প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে এমন কিছু কারণ আছে যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না।’
এই ধরনের ক্ষমাপ্রার্থনার ভাষণ সাধারণ রাজনীতিতে বিরল, বিশেষ করে যখন আসনবণ্টন একটি রাজনৈতিক গরুড়-কাপড়ের মতো জটিল প্রক্রিয়া। কুশওয়াহার এই পোস্টের প্রেক্ষাপটে স্পষ্টতই অনুভূতির দিক দিয়ে, দল ও সমর্থকদের প্রতি আস্থা ধরে রাখার চেষ্টা। NDA-র আসনবণ্টন ঘোষণা অনুযায়ী, বিজেপি (BJP) ও জদুবি (JD(U), উভয়েরই ১০১টি করে আসন, আগ্রাসী ভূমিকা পাবে। চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (LJP, Ram Vilas) পাবে ২৯টি আসন, এবং রাশট্রিয়া লোক মোর্চা (RLM) ও হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা (HAM) প্রত্যেকে ৬টি আসন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
এই বিন্যাসেই, কুশওয়াহা RLM–এর ওয়ার্ল্ড কমিটি নেতারা যে সমর্থক এবং কর্মীদের কাছে আশা ছিল, বিরক্তি ও হতাশার ছাপ ফেলেছে। যদিও ছোট রাজনৈতিক দলগুলো জোটের অংশ হতে চায়, তারা ‘একটু বেশি অংশ’ আশা করেছিল। এনডিএর প্রধানরা (বিজেপি নেতা বিনোদ তাওড়ে ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান) একসঙ্গে এই চুক্তি ঘোষণা করেন, এবং তাওড়ে X-এ লিখেন: ‘United and Dedicated NDA।’ একাধিক সংবাদসূত্রে বলা হয়েছে, বিজেপি নেতা মজুতই এক উচ্চ পর্যায়ের নেতার মন্তব্য, ‘LJP (RV)কে ২৯ আসন দেওয়া হয়েছে, যদিও তার দাবিকৃত সংখ্যাটির থেকে কম, তবুও আমরা সমঝোতা করি জোটের ঐক্য বজায় রাখতে।’ কিন্তু কুশওয়াহা, RLM এবং তাদের শক্তি ও প্রাপ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই দলটি ২০২৩ সালে গড়ে উঠেছে, জেডি(ইউ) থেকে বিভাজনের পরে, এবং তার লক্ষ্য ছিল বিহারে সামাজিক ও দলে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা তৈরি করা।
এবারের আসনবণ্টন প্রস্তাবনায় দেখা যায় যে RLM কে দেওয়া ৬টি আসন, যেমন সাসারাম, উজিয়ারপুর, দিনারা, বাজপট্টি, উদিয়রপুর, মধুবনী, কিছু সংবাদে উল্লিখিত হয়েছে। এই আসনগুলোকে ‘প্রচলিতভাবে রাজদ (RJD)-র প্রভাব এলাকা’ হিসেবে দেখা হয়। এই পরিস্থিতিতে, কুশওয়াহা তার সমর্থক ও দলের কর্মীদের ধরে রাখতে চেয়ে আহ্বান করলেন, ‘ব্যথা ও ক্ষুব্ধতা নিয়ে দোষারোপ নয়, সময় দেখিয়ে দেবে সিদ্ধান্তটি কতটা যৌক্তিক ও মহৎ।’
নিম্নবর্ণিত ঘটনাবলী নির্বাচনসহ রাজনীতিতে এক নতুন দ্যুতি বহন করছে:
- প্রথমবার সমান পারিতোষিকতা: গতকাল ঘোষণা অনুযায়ী, BJP ও JD(U) উভয়ে ১০১ আসন পেয়েছে, এটি NDA-তে বৃহৎ অংশীদারদের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারস্পরিক সমতা নির্দেশ করে।
- ছোট সহযোগীদের সংস্থান: LJP ‘কে ২৯ আসন দেওয়া হয়েছে, যা অপেক্ষাকৃত বেশ।
- RLM ও HAM–এর সীমিত অংশ: উভয় দল মাত্র ৬টি করে আসন পাবে—যা রাজনৈতিক মর্যাদা ও প্রাপ্যতা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।
- নীতিগত প্রত্যাহার: একটি সূত্র দাবি করে, RLM’কে এই ছয় আসন দেওয়ার বিনিময়ে কুশওয়াহাকে রাজ্যসভা–সদস্য পদে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এই চুক্তি ও প্রতিক্রিয়াগুলি বিহারের রাজনীতিতে এক উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একটি দল হিসেবে RLM -এর ভবিষ্যৎ এখন শুধু নির্বাচনী ফলাফলেই নয়, দলীয় সামর্থ্য, জায়গা ও ভাবমূর্তির নিয়ন্ত্রণেও নির্ভর করছে।
ছবি : প্রতীকী




