Baby Kole expelled | খড়্গপুরে সিপিএম নেতাকে প্রকাশ্যে জুতোপেটা কাণ্ড: তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলেকে দল থেকে বহিষ্কার

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ খড়গপুর : খড়্গপুরের রাজনীতিতে নয়া বিতর্কের জন্ম দিয়ে। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বেবি কোল (Baby Kole)। সিপিএমের প্রবীণ নেতা অনিল দাসকে (Anil Das) প্রকাশ্যে রাস্তায় ফেলে জুতোপেটার ঘটনায় বেবি দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সূত্রের খবর, সোমবার দুপুরে মেদিনীপুর শহরে একটি দলীয় বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত সপ্তাহে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর শহরে প্রকাশ্যে দিবালোকে সিপিএম নেতা অনিল দাসকে রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারধরের একটি ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তৃণমূল নেত্রী বেবি কোল নিজে জুতো হাতে তুলে নিয়েছেন এবং অনিল দাসকে বারবার আঘাত করছেন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। রাজনীতির ময়দানেও উত্তাল হয় ওই ঘটনা।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বারবারই দলীয় কর্মীদের শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনও আচরণ সহ্য করা হবে না। সেই বার্তাকেই কার্যকর করল দল বলে তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে খবর। উল্লেখ্য, ঘটনার পরে বেবি কোলকে শোকজ করে তৃণমূল কংগ্রেস। মেদিনীপুর সংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি ও খড়্গপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা (Sujay Hazra) তাঁকে তিনদিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি পাঠান বলে উল্লেখ। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অফিসিয়ালি সেই চিঠির উত্তর দলের কাছে পৌঁছয়নি বলে জানা যায়। বরং রবিবার থেকে সেই ‘জবাবি’ চিঠি সোশাল মিডিয়ায় ঘুরতে শুরু করে। এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রশ্ন ওঠে, দলীয় নেতৃত্বের কাছে না গিয়ে সেই চিঠি কীভাবে নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ল? এই প্রসঙ্গে সুজয় হাজরা বলেন, “আমি অফিসিয়ালি বেবি কোলের কোনও উত্তর পাইনি। ফলে এই মুহূর্তে এ নিয়ে মন্তব্য করার প্রশ্নই ওঠে না। তবে বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে।”

দল যে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে, তা শুরু থেকেই আঁচ করা যাচ্ছিল। কারণ, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন, “যে কেউ গুণ্ডামি করলে, তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সেই অবস্থান থেকে সরেনি দল। সোমবার দুপুরে মেদিনীপুর শহরে ২১ জুলাই উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল নেতা সুব্রত বক্সী (Subrata Bakshi) ও জয়প্রকাশ মজুমদার (Jay Prakash Majumdar)। বৈঠকের পরেই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, বেবি কোলকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঘটনার পর রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়ছে খড়্গপুর-সহ গোটা পশ্চিম মেদিনীপুরে। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চরম মাত্রায় ব্যক্তিগত আক্রমণ চালাচ্ছেন তৃণমূলের একাংশ। এখন দলের ভিতরেই সেই আচরণের ফল দলের নেতানেত্রীদের ভোগ করতে হচ্ছে। তবে বেবি কোলের পক্ষ থেকে এই বহিষ্কারের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে মুখে কুলুপ এঁটেছেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের একাংশের মতে, “এতবড় একজন নেত্রী দলের ভাবমূর্তি এমনভাবে নষ্ট করবেন, আমরা ভাবতেই পারিনি। দল ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দলের শৃঙ্খলা ও ইমেজ বজায় রাখা। আর তাই কোনও রকম বিতর্কিত ঘটনার ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করছে শাসকদল। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলের মত, তৃণমূল কংগ্রেসে দায়িত্বশীলতা ও শৃঙ্খলার বার্তা আরও স্পষ্ট করে দিল দল। একইসঙ্গে আগামী দিনে তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের আচরণ আরও কড়া নজরে থাকবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Sasraya News Sunday’s Literature Spacial | Issue 72, 6th July 2025, Sunday | সাশ্রয় নিউজ রবিবারের সাহিত্য স্পেশাল | ৬ জুলাই ২০২৫, সংখ্যা ৭২। রবিবার

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন