Assam earthquake, North Bengal earthquake | অসমে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ, আতঙ্কে

SHARE:

অসমে রিখটার স্কেলে ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গ ও ভুটান। আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ। এখনও পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। Assam earthquake of magnitude 5.8 on the Richter scale shook North Bengal and Bhutan. Panic spread as people rushed out of homes, though no damage has been reported yet.

স্নিগ্ধা বসু, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : অসমে প্রবল ভূমিকম্পের ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়াল রাজ্য জুড়ে। রবিবার বিকেল ৪:৪১ মিনিটে হঠাৎই কম্পন অনুভূত হয় অসমের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা, শিলিগুড়ি (Siliguri), জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri), দার্জিলিং (Darjeeling) -সহ বিভিন্ন জায়গাতেও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। আতঙ্কে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৮, যার উৎসস্থল ছিল অসমের উদালগুড়ি (Udalguri) জেলা। ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল মাত্র ৫ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে অগভীর ও তাই তার প্রভাব বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।স্থানীয় সূত্রে খবর, কম্পনের সময় গুয়াহাটি (Guwahati) শহর কার্যত কেঁপে ওঠে। আতঙ্কে অফিস, দোকান ও বাড়িঘরের বাসিন্দারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী সুদীপ দেবশর্মা নামে এক বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎই মাটির নিচ থেকে গুমগুম আওয়াজের মতো অনুভূতি হচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যেই ঘর-বাড়ি কেঁপে ওঠে। আমরা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসি।”

অসম ছাড়াও ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী ভুটান (Bhutan)-এও। সেখানেও মৃদু মাত্রায় কাঁপুনি টের পাওয়া যায়। কলকাতাতেও (Kolkata) হালকা কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অনেক পথচারী হঠাৎ থমকে গিয়ে মৃদু কাঁপুনি অনুভব করেছেন, তবে সময়কাল ছিল অতি অল্প। ফলে সেখানে আতঙ্ক ছড়ালেও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
উত্তরবঙ্গে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এখনও পর্যন্ত কোথাও প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষতির খবর নেই। শিলিগুড়ির বাসিন্দা মধুমিতা রায় বলেন, “ভূমিকম্প হবে একেবারেই ভাবিনি। হঠাৎই ঘরের আসবাব কেঁপে উঠতে শুরু করে। ছোট ছেলেমেয়েরা ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে দেয়। মনে হচ্ছিল যেন ২০১১ সালের সেই দুঃসহ দিনের স্মৃতি আবার ফিরে এসেছে।”

Read : PM Modi Congress attack | ‘আমি শিবভক্ত, গরল গিলে নেব’, কংগ্রেসকে আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া বার্তা

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বকর্মা পুজোর সময় এক ভয়াবহ ভূমিকম্প কাঁপিয়ে দিয়েছিল সিকিম (Sikkim) ও উত্তরবঙ্গকে। সেবার রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল প্রায় ৬, আর তার প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে পাহাড়ি এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আতঙ্ক এখনও পিছু ছাড়েনি বাসিন্দাদের। ফলে এবারের ভূমিকম্পের ঘটনায় পুরনো ভয় আরও একবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর-পূর্ব ভারত ভূকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর কারণে এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই মাঝারি বা প্রবল ভূমিকম্প হয়ে থাকে। মাত্র কয়েকদিন আগেই, ২ সেপ্টেম্বর অসমের শোণিতপুরে (Sonitpur) ৩.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। তার মাত্র ১২ দিনের মধ্যেই ফের বড়সড় কম্পন আতঙ্ক সৃষ্টি করল। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, এই ধারাবাহিক ভূমিকম্প উত্তর-পূর্ব ভারতের ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতাকে আবারও সামনে এনে দিল।

অসমের ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ড. অমলেন্দু দত্ত (Dr. Amlendu Dutta) বলেন, “এই ধরনের অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত ব্যাপক এলাকায় অনুভূত হয়। যদিও এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যতের জন্য সাবধান থাকা জরুরি। উত্তর-পূর্বের টেকটোনিক প্লেটগুলি অত্যন্ত সক্রিয়, তাই এই ধরনের কম্পন যে কোনও সময়ে ঘটতে পারে।” স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর না থাকলেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং-সহ পাহাড়ি জেলাগুলিতে জেলা প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বকর্মা পুজোর আগমুহূর্তে ফের ভূমিকম্পের আতঙ্কে উত্তরবঙ্গবাসীর মনে ভর করেছে এক অদ্ভুত অস্বস্তি। বহু মানুষ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আবারও কি সেই পুরনো দুঃস্বপ্ন ফিরে আসছে?” যদিও এখনও পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন।

ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন