পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক : এশিয়া কাপ ২০২৫-এ (Asia Cup) ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত। বুধবার বাংলাদেশকে ৪১ রানে হারিয়ে সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) -এর নেতৃত্বাধীন দল নিশ্চিত করল ফাইনালের আসন। তবে ম্যাচে জয় এলেও ভারতীয় শিবিরে কিছু প্রশ্ন থেকে গেল, বিশেষ করে ব্যাটিং অর্ডার ও ফিল্ডিং নিয়ে। ভারতের হয়ে জয়ের ভিত গড়ে দিলেন অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত ইনিংস খেলে অভিষেক শর্মা দলকে এগিয়ে দিলেন। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেখানে ২৩ বলে অর্ধশতরান করেছিলেন, বাংলাদেশের বিপক্ষেও ঝড়ো ব্যাটিং করলেন অভিষেক। ৩৭ বলে ৭৫ রানের অসাধারণ ইনিংস সাজালেন ৬টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে। তাঁকে সঙ্গ দিলেন শুভমন গিল (Shubman Gill), যিনি ধীরগতির হলেও শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ রান তোলেন। কিন্তু তাঁদের পরেই ভেঙে পড়ল ভারতের মিডল অর্ডার। এই ব্যর্থতা ফাইনালের আগে চিন্তা বাড়াচ্ছে গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) -এর কোচিং টিমের জন্য।
ম্যাচের শুরুতে ভারতীয় ওপেনাররা সতর্ক ছিলেন। প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান তুললেও পরের তিন ওভারে ৫৫ রান ওঠে। পাওয়ারপ্লেতে ভারত তুলেছিল ৭২ রান, যা স্পষ্টতই ম্যাচে প্রভাব ফেলেছিল। তবে অভিষেক ফিরে গেলে ব্যাটিংয়ের গতি থেমে যায়। গম্ভীরের অদ্ভুত সিদ্ধান্তে তিন নম্বরে নামানো হল শিভম দুবেকে (Shivam Dube)। দুবে রান পাননি। এর ফলে স্বাভাবিক জায়গায় ব্যাট করতে না পেরে দ্রুত ফেরেন সূর্যকুমার ও তিলক বর্মা (Tilak Varma)। গম্ভীর-এর সিদ্ধান্তে রীতিমতো বিরক্ত ক্রিকেট মহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটিং অর্ডারে এই পরীক্ষানিরীক্ষা দলকে চাপে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, ভারতের ইনিংস শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রানে থামে। শেষ দিকে হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya) ২৯ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে রানকে টেনে নিয়ে যান। না হলে দল ১৬০ রানও পেত না। উল্লেখযোগ্যভাবে, সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson) ব্যাট করার সুযোগই পেলেন না। ওপেনিংয়ে খেলতে অভ্যস্ত এই ব্যাটারকে ডাগ আউটে বসিয়ে রাখায় প্রশ্ন উঠছে ভারতীয় ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে।

বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ছিল ১৬৯। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এই রান তাড়া করলেও ভারতের বোলিং আক্রমণ আলাদা মাত্রার। শুরুতেই জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah) নিজের ছন্দে ফেরেন। দ্বিতীয় বলেই ফিরিয়ে দেন তানজিদ হাসান (Tanzid Hasan)। এরপর পারভেজ হোসেন ইমন (Parvez Hossain Emon) ও সইফ হাসান (Saif Hassan) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটি বেশিক্ষণ টেকেনি। বাংলাদেশের ইনিংসে একমাত্র লড়াইয়ের নাম সইফ। ৫১ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেললেও তাঁকে তিনবার ক্যাচ মিস করে সাহায্য করল ভারতীয় ফিল্ডাররা। সব মিলিয়ে ভারত ম্যাচে পাঁচটি ক্যাচ ফেলল। চলতি এশিয়া কাপে ভারতের মোট ক্যাচ মিস দাঁড়াল ১২-তে, যা প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক। প্রশ্ন এখানেও! ফাইনালের আগে ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ (T Dilip) -এর কাছে অবশ্যই এটি বড় চিন্তার কারণ। উল্লেখ্য, সইফ ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ-ই দুই অঙ্কের রান পেরোতে পারেনি। তৌহিদ হৃদয় (Towhid Hridoy), জাকের আলিরা (Jaker Ali) একে একে ব্যর্থ হন। ভারতের বোলারদের মধ্যে কুলদীপ যাদব (Kuldeep Yadav) ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। বুমরাহ ও বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy) ২টি করে উইকেট দখল করেন। এছাড়া অক্ষর পটেল (Axar Patel) ও তিলক একটি করে উইকেট নেন। শেষ পর্যন্ত ১৯.৩ ওভারে ১২৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
ম্যাচ শেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত ফাইনালে পৌঁছালেও অনেক প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। ব্যাটিং অর্ডারের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, স্যামসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে ব্যবহার না করা এবং ধারাবাহিক ক্যাচ মিস- এসবই বড় ম্যাচে সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও অভিষেক শর্মার দুর্দান্ত ফর্ম এবং বোলারদের শৃঙ্খলাপূর্ণ পারফরম্যান্স ভারতের সবচেয়ে বড় শক্তি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার ভারত নিয়মরক্ষার ম্যাচে খেলবে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। তবে চোখ এখন রবিবারের ফাইনালে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশের ম্যাচ কার্যত সেমিফাইনালের রূপ নিয়েছে। যে দল জয়ী হবে, তারা ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতের। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন অপেক্ষা করছেন, অভিষেক-সূর্যদের ঝলক কি ফাইনালেও বজায় থাকবে, নাকি ভুল সিদ্ধান্ত দলকে চাপে ফেলবে।
ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bangladesh vs Sri Lanka Asia Cup 2025 | প্রতিশোধের স্বাদ পেল বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সুপার ফোরে জয় দিয়ে শুরু




