পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ দুবাই : ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন মাঠেও প্রভাব ফেলছে বারবার। এবারের ম্যাচও তার ব্যতিক্রম নয়। শুরু হয়েছিল প্রতিবাদের সুরে, শেষও হল সেই একই কণ্ঠে। ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) ম্যাচ জেতানোর পরেও পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘা (Salman Ali Agha) ও পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে অস্বীকার করেন। এভাবেই নীরব প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে বার্তা দিলেন সূর্যরা। টসের সময় থেকেই চিত্রটা স্পষ্ট হয়ে যায়। পাকিস্তানের অধিনায়ক সলমন আলি আঘার সঙ্গে করমর্দন করেননি সূর্যকুমার। আর খেলা শেষে ভারতীয় দলও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দূরত্ব বজায় রাখে। পাকিস্তান যখন পুরো দল দাঁড়িয়ে হাত মেলানোর জন্য অপেক্ষা করছিল, তখন ভারতীয় ক্রিকেটাররা নিজেদের সাজঘরে ফিরে যান ও দরজা বন্ধ করে দেন। মাঠে আম্পায়ারদের সঙ্গে স্বাভাবিক সৌজন্য বজায় রাখলেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দিকে আর এগোলেন না ভারতীয়রা।
এই ঘটনার ভিডিও সম্প্রচার হয়নি, কারণ খেলা শেষ হতেই টেলিভিশন চ্যানেল বিজ্ঞাপনে ঢেকে দেয় শেষ মুহূর্তের দৃশ্য। তবে স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা পুরো ঘটনাই প্রত্যক্ষ করেছেন। ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তকে তারা করতালি দিয়ে স্বাগত জানান। ম্যাচে পাকিস্তান একেবারেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৫ বল বাকি থাকতে সহজেই জিতে যায় ভারত। সূর্যকুমার অপরাজিত থাকেন ৪৭ রানে, আর শেষ ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন। তাঁর সঙ্গে ক্রীজে ছিলেন শিবম দুবে (Shivam Dube)। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যে উল্লাস করলেও প্রতিপক্ষের দিকে একেবারেই এগোলেন না।
ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট টিমের মধ্যে ছিলেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। তাঁরাও মাঠে না নেমে সাজঘরে বসেই জয় উদযাপন করেন। অন্যদিকে, হতাশ পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা দাঁড়িয়ে থাকেন, কিন্তু ভারতীয় দল আর ফিরেও তাকায়নি। টিম ইন্ডিয়ার এই নীরব প্রতিবাদকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনার ঝড়। বলিউড অভিনেত্রী রবিনা ট্যান্ডন (Raveena Tandon) ম্যাচ চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘আমি আশা করছি আমাদের ক্রিকেটারেরা কালো আর্মব্যান্ড পরবেন এবং হাঁটু মুড়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।’ যদিও ভারতীয়রা সেই পথে যাননি। তাঁরা ভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানকে মাঠে কেবল প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেছেন, তার বাইরে কোনও সম্পর্ক স্বীকার করেননি। রবিবারের এই ম্যাচ বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে কারণ জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা ও ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর দুই দেশ ক্রিকেট মাঠে প্রথমবার মুখোমুখি হল। সেই ঘটনার পর থেকেই ম্যাচ বয়কটের দাবি উঠছিল নানা মহলে। তবে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) জানিয়ে দেয়, বড় প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে আপত্তি নেই তাদের। কিন্তু রাজনৈতিক স্তরে বিতর্ক চলছেই। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যখন সীমান্তে রক্ত ঝরছে, তখন কি পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট খেলা উচিত?’ গত মাসেই ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডস-এ ভারত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলতে অস্বীকার করেছিল। কিন্তু এশিয়া কাপে সেই দৃশ্য দেখা গেল না।
কিন্তু, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) ও আইসিসি (ICC) আয়োজিত প্রতিযোগিতায় খেলতে ভারত কোনও বাধা রাখছে না। তাদের বক্তব্য, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আলাদা বিষয়, কিন্তু বহুপাক্ষিক টুর্নামেন্টে নিয়ম মেনে খেলতে হবে। তবে ক্রিকেটারদের মনে হয়ত ক্ষোভ জমেই আছে। সেই ক্ষোভই এবার প্রকাশ পেল সূর্যদের হাত না মেলানোর সিদ্ধান্তে। ভারতীয় সমর্থকেরা এই পদক্ষেপকে অনেকেই সমর্থন করেছেন। তাঁদের মতে, এটা ছিল ক্রিকেট মাঠে যথার্থ প্রতিবাদ। খেলা জেতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রতিপক্ষের প্রতি আচরণ দিয়েও বার্তা দেওয়া যায়। সূর্যকুমারের নেতৃত্বে ভারতীয় দল সেটাই দেখাল। ম্যাচের আগে যেভাবে প্রতিবাদ শুরু হয়েছিল, ম্যাচের শেষে একইভাবে তা গড়ে তুলল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। মাঠে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে ভারত প্রমাণ করেছে নিজেদের শক্তি। আর খেলা শেষে হাত না মেলানোয় স্পষ্ট হয়েছে, এই জয় কেবল ক্রিকেট নয়, দেশের সম্মান আরও বাড়িয়ে দিল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :Sourav Ganguly Biopic Shooting | সৌরভের বায়োপিকের জন্য কলকাতায় রাজকুমার রাও, শহরজুড়ে চলছে রেইকি




