Anuparna Roy Best Director, Venice Film Festival Winner | বাংলার মেয়ে অনুপর্ণার বিশ্বজয়, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা পরিচালকের সম্মান, মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

SHARE:

জয়ী বিশ্বাস, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলার কন্যা অনুপর্ণা রায় (Anuparna Roy)। ৮২তম ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অরিজন্তি বিভাগে তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের খেতাব জিতে নিয়েছেন। বাঙালি প্রতিভার এই জয়গাথা ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে গর্বের কারণ হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং অনুপর্ণার সাফল্যকে “বাংলার মেয়েদের জয়” বলে অভিহিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সোমবার নিজের এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, “আমাদের পুরুলিয়ার মেয়ে অনুপর্ণা রায়ের অসাধারণ আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়ার খবরে আমার খুব আনন্দ হয়েছে। আমি তাঁকে, তাঁর মা-বাবাকে এবং তাঁর সকল বন্ধু-সহযোগীকে অভিনন্দন জানাই। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাঁর শাখায় শ্রেষ্ঠ পরিচালকের সম্মান পাওয়া কার্যত বিশ্ব জয় করার সমান।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও লেখেন, “এই শাখায় এই সম্মান এর আগে কোনো ভারতীয় পরিচালক পাননি। তাঁর এই জয় আমাদের বাংলার মেয়েদের জন্য গর্বের বিষয়। আমি চাই অনুপর্ণা আরও অনেক দূর এগিয়ে যাক এবং বাংলার মুখ উজ্জ্বল করুক।”

অনুপর্ণা রায়। ছবি : সংগৃহীত

পুরুলিয়ার নিতুড়িয়ার সরবড়ি গ্রামের কাছে নারায়ণপুরের মেয়ে অনুপর্ণাকে এলাকার মানুষজন ‘মাম্পি’ নামেই চিনতেন। রানিপুর হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শুরু হলেও মাধ্যমিকে খুব ভাল ফল করতে পারেননি তিনি। তাই বাবা-মা তাঁকে পাঠিয়ে দেন ইংরেজি শিক্ষক মামা নীলোৎপল সিংহের কাছে। সেই মামার হাত ধরেই বদলে যেতে শুরু করে অনুপর্ণার জীবনের মোড়। ইংরেজি সাহিত্য, ভারতীয় সংস্কৃতি আর জীবনের দর্শন তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। ফলে দু’টি নামী কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি ছেড়ে তিনি ঝুঁকে পড়েন সিনেমা নির্মাণে। অনুপর্ণা রায় নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় পুরস্কার জয়ের পর আবেগঘন পোস্টে লেখেন, “মামা মাই ফার্স্ট টিচার।” আসলে তাঁর উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা শুরু হয় মামার বাড়িতেই। সেখান থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি ভালবাসা গভীর হতে থাকে।

ভেনিসে অনুপর্ণা রায়। ছবি : সংগৃহীত

২০২১ সালে পুরুলিয়ার পুঞ্চার ন’পাড়ায় শুরু হয় তাঁর প্রথম সিনেমার শুটিং। গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও মানুষ তাঁর কাহিনির অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম ছবি ‘রান টু দ্য রিভার’ (Run to the River) সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু দ্বিতীয় ছবি ‘সংস অফ ফরগটেন ট্রিজ’ (Songs of Forgotten Trees) তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দেয়। ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই ছবির জন্যই তিনি অর্জন করেছেন শ্রেষ্ঠ পরিচালকের মর্যাদা। উল্লেখ্য যে, এলাকার মানুষ ও তাঁর পরিবার অনুপর্ণার এই কৃতিত্বে উচ্ছ্বসিত। পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমরা জানতাম ওর মধ্যে প্রতিভা আছে। কিন্তু এইভাবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার এনে দেবে, এটা সত্যিই ভাবিনি। ওর মামাই আসল অনুপ্রেরণা।”

অনুপর্ণা রায়। ছবি : সংগৃহীত

অনুপর্ণা শেষবার পুঞ্চার ন’পাড়ায় মামার বাড়ি গিয়েছিলেন ২০২৩ সালের কালীপুজোর সময়। সেখানকার মানুষ আজও স্মরণ করেন কিভাবে শুটিংয়ের সময় সাধারণ গ্রাম্য পরিবেশ ও মানুষদের তিনি ছবির অংশ করেছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি আজও ‘মাম্পি’, তবে বিশ্ব দরবারে আজ তিনি অনুপর্ণা রায়, ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের এই জয় কেবল একজন পরিচালকের ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, তা বাংলার সংস্কৃতি ও শিল্পের বৈশ্বিক স্বীকৃতি। সিনেমা জগতে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপর্ণা হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণা। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করেছে, প্রতিভা ও সাহস থাকলে গ্রামবাংলার এক সাধারণ মেয়েও বিশ্বমঞ্চে নিজের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Ananya Panday Taught Acting to Saiyaara Actress Aneet Padda | অভিনয় শেখানোর ভিডিও ভাইরাল: ‘সাইয়ারা’র নায়িকা অনীত পাড্ডাকে গাইড করছিলেন অনন্যা পাণ্ডে! নেটিজেনরা বললেন, ‘এখন তো ও বড় স্টার’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন