Amit Mitra | পুজোর পর শিল্প সম্মেলন, বিনিয়োগ টানতে নবান্নের বড় পদক্ষেপ

SHARE:

আলোক নাথ, সাশ্রয় নিউজ ★ কলকাতা : রাজ্য রাজনীতির উত্তাল সময়ের মাঝেই শিল্পের গতিপথ নির্ধারণে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র (Amit Mitra) ঘোষণা করলেন, দুর্গাপুজোর পরেই পশ্চিমবঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে একটি সর্বভারতীয় শিল্প সম্মেলন। এই ঘোষণার পিছনে রয়েছে সুপরিকল্পিত বার্তা, আগামী বছরের বিধানসভা ভোটের আগে শিল্পে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করা। নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত ‘সিনার্জি কমিটি’ (Synergy Committee)-এর কাজ গত তিন মাসে উল্লেখযোগ্য গতিতে এগিয়েছে। ওই কমিটির বৈঠকে ইতিমধ্যেই ৩১৬৫টি শিল্প প্রকল্পকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে রিয়েল এস্টেট, আইটি (IT), ফুড প্রসেসিং (Food Processing), ট্যুরিজম (Tourism)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাত রয়েছে। প্রকল্পগুলির সম্ভাব্য বিনিয়োগের নির্দিষ্ট অঙ্ক এখনও প্রকাশ্যে না এলেও, অমিত মিত্র দাবি করেছেন, “এই পরিমাণ প্রকল্প ছাড়পত্র পাওয়া মানে একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ-পরিবেশ গড়ে উঠছে রাজ্যে।”

মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant), অর্থসচিব প্রভাতকুমার মিশ্র (Prabhat Kumar Mishra), ও শিল্পসচিব বন্দনা যাদব (Bandana Yadav)-কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অমিত মিত্র। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারে বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রকল্প নির্বাচন করতে গিয়ে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যে সব প্রকল্প কর্মসংস্থান বাড়াতে পারে, যেগুলিতে রফতানির সুযোগ রয়েছে এবং যাদের ক্ষেত্রে রাজ্যের ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগানো যায়, সেগুলিই আগে বিবেচনায় আনা হয়েছে।”

রাজ্য সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট শিল্পখাত আগামী দিনে বাংলার অর্থনীতির প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠবে। তালিকায় রয়েছে, স্টিল, মৎস্য ও পোলট্রি উৎপাদন, চিংড়ি রফতানি, চামড়াজাত দ্রব্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (Artificial Intelligence), মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট (Medical Equipment), ওষুধ, গয়না ও পোশাকশিল্প। রাজ্যের শিল্পপথে নতুন সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছেন অমিত। তাঁর কথায়, “ইতিমধ্যেই রাজ্য বছরে ৭০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের চামড়াজাত দ্রব্য রফতানি করে, যা ভারতের মোট রফতানির ৫০ শতাংশের কাছাকাছি। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ মিলিয়ে গত বছর ২.০৫ কোটি মার্কিন ডলারের রফতানি হয়েছে।” এই তথ্যগুলি থেকেই পরিষ্কার, রাজ্যের রফতানি পটেনশিয়াল বাড়ছে এবং তা শিল্প সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে।

এই শিল্প সম্মেলনে রাজ্যের অগ্রাধিকারে থাকা শিল্পখাতগুলি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। পাশাপাশি আলোচনায় আসবে নতুন সম্ভাবনাময় খাতও, যেগুলিতে আগামী দিনে রাজ্য আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টানতে পারে। পুজোর মরসুমের পরে শিল্প সম্মেলনের সময় বেছে নেওয়ার কৌশলগত কারণ রয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে শিল্পোন্নয়নের স্পষ্ট নীলনকশা তুলে ধরতে চায় রাজ্য সরকার। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন বিনিয়োগকারীদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া যাবে, তেমনই রাজ্যবাসীর কাছেও উঠে আসবে সরকারের উন্নয়নমুখী ভাবনা।

উল্লেখ্য, শিল্প সম্মেলন ঘিরে রাজ্য যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট করেছেন অমিত মিত্র নিজেও। তাঁর মন্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজ্যে শিল্পায়নের যে প্রয়াস চলছে, এই সম্মেলন সেই পথেই এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিনিয়োগ টানতে শুধু প্রকল্প তালিকা নয়, দরকার স্থিতিশীল নীতি, স্বচ্ছ প্রশাসনিক সহায়তা ও সময়মতো অনুমোদন প্রক্রিয়া। রাজ্যের এই নতুন পদক্ষেপ সেই দিকেই এক বড় ইঙ্গিত, যা ভবিষ্যতে বাংলাকে জাতীয় শিল্প মানচিত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন | Dilip Ghosh felicitates Samik Bhattacharya | দিলীপের ‘ঘরওয়াপসি’! শমীককে পদ্মফুলের ছবি উপহার, বললেন ‘উনিশে হাফ, ছাব্বিশে সাফ’

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন