Akashdeep Singh sister cancer | আকাশদীপের ১০ উইকেট, দিদির চোখে জল : ‘দেশকে জেতা, আমার জন্য চিন্তা করিস না’

SHARE:

শুভ্রাংশু চন্দ ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা : ভারতীয় ক্রিকেটে একটি বিস্ময়কর রাতের নায়ক এখন আকাশদীপ সিংহ (Akashdeep Singh)। ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট ম্যাচেই ঝড় তুলে ১০ উইকেট শিকার করে নতুন নজির গড়েছেন এই পেসার। দেশের হয়ে এমন ঐতিহাসিক সাফল্যকে তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর ক্যানসার আক্রান্ত দিদি অখণ্ড জ্যোতি সিংহ (Akhanda Jyoti Singh)-কে। তিনি আজও ছোট ভাইকে নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ানোর স্বপ্নে বাঁচেন, আর বলেন, ‘দেশকে জেতা, আমার জন্য চিন্তা করিস না।’

ক্যানসারের তৃতীয় পর্যায়ে থাকা জ্যোতির লড়াইয়ের কাহিনি আর আকাশদীপের আবেগ মিশে গেছে এক অনন্য মানবিক ছোঁয়ায়। দেশের একটি জনপ্রিয় মিডিয়া হাউসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অখণ্ড জ্যোতি জানান, ‘আকাশ যখন উইকেট নিচ্ছিল, আমরা সবাই টিভির সামনে হাততালি দিতে দিতে চিৎকার করছিলাম। পাশের বাড়ি থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল, কী হয়েছে! কিন্তু আমরা থামিনি।’

আকাশদীপের এই অর্জন শুধু ক্রিকেটপ্রেমীদের নয়, একটা গোটা পরিবারের জীবনের লড়াইকে নতুন করে তুলে ধরেছে। বাবার (Balwant Singh) ও বড় দাদার মৃত্যুতে পরিবারে একমাত্র পুরুষ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন আকাশ। সঙ্গেই চালিয়ে গিয়েছেন খেলা, কঠোর পরিশ্রম। ফলস্বরূপ এজবাস্টনে (Edgbaston) ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে সোনার অক্ষরে লেখা এক পারফরম্যান্স। ভাইয়ের সাফল্যে গর্বে চোখে জল দিদির। বলেন, ‘ওকে বলেছি আমি ঠিক আছি, আমার জন্য চিন্তা করতে হবে না। শুধু এ ভাবেই দেশের জন্য খেল।’ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এখনও ছ’মাস কেমোথেরাপি চলবে জ্যোতির। কিন্তু অসুস্থতার মধ্যেও ভাইয়ের প্রতি তাঁর স্নেহ আর উৎসাহ এতটুকু কমেনি। জ্যোতির কথায় উঠে এসেছে আরও একটি স্পর্শকাতর দিক, ভাইয়ের আবেগ। আকাশদীপ সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে দিদির অসুস্থতার কথা প্রকাশ্যে আনেন। এটা নিয়ে ক্ষোভ নয়, আবেগের মূল্য দিতে পেরেছেন দিদি। বলেন, ‘আমি ভাবিনি ও এত কিছু বলে দেবে। আমরা কাউকে বলিনি এখনও। কিন্তু ওর পক্ষে আর লুকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। এটাই প্রমাণ করে, আমাকে ও কতটা ভালবাসে। পরিবারে ওর সবচেয়ে কাছের মানুষ আমি।’

ম্যাচের পর দুই ভাইবোনের মাঝে হয় ভিডিও কল। জ্যোতি জানান, ‘খেলা শেষ হওয়ার পর দু’বার ওর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। ও বলেছে চিন্তা না করতে। গোটা দেশ আমার পাশে আছে। আরও বলেছে, অনেক চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আর নিজেকে সামলাতে পারেনি।’ আকাশদীপ কেবল দিদির ভাই নন, এখন তিনি পরিবারের কর্তা। আইপিএল (IPL) চলাকালীন যখন আকাশ লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) হয়ে খেলছিলেন, তখনই দিদিকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল। খেলার চাপ সামলেও সময় করে হাসপাতালে গিয়ে দিদির সঙ্গে দেখা করেছেন আকাশদীপ। ‘ও ঠিক সময়ে সময় বের করে নিত, ম্যাচের আগে বা পরে আমার সঙ্গে দেখা করত,’ জানান জ্যোতি।

উল্লেখ্য যে, এখনও পর্যন্ত ইংল্যান্ড সফরে একটাই টেস্ট খেলেছেন আকাশদীপ। তাতেই ১০ উইকেট নিয়ে করেছেন ইতিহাস। এটাই কোনও ভারতীয় বোলারের ইংল্যান্ডে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স। সামনে রয়েছে আরও তিনটি টেস্ট। সেখানেও আকাশদীপের খেলা একপ্রকার নিশ্চিত। দিদির স্বপ্ন, ‘ভাই আরও উইকেট নিক, দেশকে জেতাক।’ যদিও ক্রিকেটের ময়দানে আকাশদীপ হিরো, কিন্তু ঘরের মাটিতে তাঁর প্রিয় পরিচয়, দিদির হাতে রান্না করা খাবারের একনিষ্ঠ ভক্ত। জ্যোতি বলেন, ‘আকাশ আমার হাতের রান্না খুব ভালবাসে। বিশেষ করে দইবড়া। এবার ফিরলে ওকে দইবড়া রান্না করে খাওয়াব। সবজি খেতেও ওর খুব পছন্দ।’ সাফল্যের মঞ্চে দাঁড়িয়েও নিজের শিকড় আর পরিবারের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা আকাশদীপ আজকের ভারতীয় তরুণদের সামনে এক নতুন অনুপ্রেরণা। নিজের কঠিন সময়েও যিনি দায়িত্ব নিয়েছেন, খেলায় ফোকাস রেখেছেন ও পরিবারকে আগলে রেখেছেন, তিনি শুধু একজন ক্রিকেটার নন, একজন সত্যিকারের ‘রিয়েল লাইফ হিরো’।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন