Aishwarya Rai Bachchan Abhishek Bachchan News | অশালীন ডিপফেক ভিডিওতে ঐশ্বর্যা-অভিষেকের মুখ! ক্ষতিপূরণে কোটি টাকার দাবি, আদালতের দ্বারস্থ তারকা দম্পতি

SHARE:

মিলি ঘোষ, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : বলিউডের জনপ্রিয় তারকাদম্পতি ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan) ও অভিষেক বচ্চন (Abhishek Bachchan) সম্প্রতি একটি বড় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) সাহায্যে তাঁদের মুখ ও কণ্ঠ ব্যবহার করে তৈরি হওয়া অশালীন ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউটিউব (YouTube) ও গুগল (Google) প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিও প্রচারিত হচ্ছে এবং সেগুলোর কারণে তাঁদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই এবার আদালতের শরণাপন্ন হয়ে দুই তারকা বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।সূত্রে খবর, ক্ষতিপূরণ বাবদ ঐশ্বর্যা-অভিষেক প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করেছেন, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি টাকার সমান। আদালতে জমা দেওয়া মামলার নথিতে তাঁরা স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়া ও সম্পূর্ণ মিথ্যে তথ্যের ভিত্তিতে এই অশালীন কনটেন্ট তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সূত্রের খবর, অভিযোগে বলা হয়েছে, শতাধিক লিঙ্ক ও স্ক্রিনশট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন (Aishwarya Rai Bachchan) ও অভিষেক বচ্চনের (Abhishek Bachchan) মুখ ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে “অশালীন”, “যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ” ও “ভুয়ো” ভিডিও।অভিনেতা-অভিনেত্রী দু’জনের দাবি, এই সব ভিডিও তৈরি হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং এগুলো সম্পূর্ণ ভুয়ো।অভিষেক বচ্চন আদালতে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করেছেন, “এই ধরনের ডিপফেক কনটেন্ট শুধু আমাদের ব্যক্তিগত মর্যাদা নষ্ট করছে না, তা দর্শক ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করছে। এর ফলে ভুয়ো তথ্যের প্রসার ভয়াবহ আকার নিচ্ছে।” অন্যদিকে ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন দাবি করেছেন, “এই ধরনের কনটেন্ট স্রেফ মানহানির সামিল। আমাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনমানসে ভুল ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

তারকা দম্পতির অভিযোগ অনুযায়ী, ইউটিউবের নীতিমালা ও তৃতীয় পক্ষের ট্রেনিং পলিসি আসলে উদ্বেগজনক। কারণ নিয়ম অনুযায়ী, ইউটিউব ব্যবহারকারীরা নিজেদের তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বিভিন্ন এআই মডেলকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে। এর ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ও অশালীন কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা আরও বাড়ছে। সূত্রের খবর, এই মামলার নথি জমা দেওয়া হয়েছে গত ৬ সেপ্টেম্বর। তবে মামলার কাগজপত্র এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। বিশ্বস্ত সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, দিল্লি হাই কোর্ট (Delhi High Court) ইতিমধ্যেই গুগলের আইনজীবীকে আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই শুনানিতেই বিষয়টির পরবর্তী আইনি দিক নির্ধারিত হবে।

শিল্পী সমাজের মধ্যে এই ঘটনার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ডিপফেক প্রযুক্তির এই অপব্যবহার বলিউডসহ বিনোদন দুনিয়ার শিল্পীদের জন্য নতুন এক হুমকি। আইটি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়ো কনটেন্টের এই বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর আইন প্রয়োজন। যদিও এই প্রযুক্তি ইতিবাচক কাজেও ব্যবহার করা যায়, কিন্তু নিয়মকানুনের অভাবে এর নেতিবাচক দিকগুলো ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ডিপফেকের বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ভুয়ো ভিডিও ঠেকাতে নতুন আইন কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতে এই ধরনের ঘটনা আরও বেড়ে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার রায় ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ঐশ্বর্যা-অভিষেকের এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন তুলেছে। ভক্তরা তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেছেন, তারকাদের মুখ ব্যবহার করে ভুয়ো কনটেন্ট তৈরি করা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ডিপফেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা উচিত। এই মুহূর্তে বলিউডের এই তারকা দম্পতি নীরব থাকলেও, তাঁদের আইনি পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই বড় বার্তা দিয়েছে যে প্রযুক্তির অপব্যবহার কতটা ভয়াবহ হতে পারে। আগামী জানুয়ারির শুনানির পরেই জানা যাবে আদালত কী নির্দেশ দেয় এবং ইউটিউব-গুগল এই বিষয়ে কী অবস্থান নেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন