তনুজা বন্দ্যোপাধ্যায় ★ সাশ্রয় নিউজ : মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় (Bandra) এক সুবিশাল অ্যাপার্টমেন্টে থাকেন অভিনেতা আয়ুষ শর্মা (Aayush Sharma) ও অর্পিতা খান (Arpita Khan)। বলিউডের তারকা পরিবার হলেও, তাঁদের বসবাসের ধরন খানিকটা অন্যরকম বলা চলে। সম্প্রতি পরিচালক ও নির্মাতা ফারাহ খান (Farah Khan)-এর ইউটিউব শো-তে দেখা গেল তাঁদের অভিজাত বাড়ির ভেতরের চমকপ্রদ দুনিয়া। সেখানে এক ছাদের নিচে থেকেও আলাদা ঘরে থাকেন দম্পতি। সেটা কেমন? দেখা যাক…
বাড়ির স্নিগ্ধ ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আয়ুষ হাসতে হাসতেই বলেন, “ওয়েলকাম হামারে মুম্বাইকে দুবাই মে।” ফারাহ খান বিস্ময়ে জবাব দেন, “ইটস বেটার দ্যান দুবাই।” সেই মুহূর্তেই বুঝে যাওয়া যায়, এই অ্যাপার্টমেন্ট নিছক একটি আবাসন নয়, একান্ত ব্যক্তিগত অথচ অভিজাত এক আবেগঘন জগৎ। আয়ুষ ও অর্পিতার দুই সন্তান, আহিল (Ahil) ও আয়াত (Ayat)-এর সঙ্গে তাঁরা এই সুবিশাল ফ্ল্যাটে থাকেন। এখানে রয়েছে মোবাইল ওয়াল, যেটা পার্টির সময় খুলে দেওয়া যায়, আবার প্রয়োজন হলে ঘর আলাদা করেও ফেলা যায়। এই ওয়ালের প্রসঙ্গে আয়ুষ রসিকতা করে বলেন, “যখন অর্পিতা আমার ওপর রাগ করে, তখন সে দরজা বন্ধ করে না, এই ওয়াল টেনে পুরো ঘর আলাদা করে দেয়।” ফারাহ খান জিজ্ঞেস করেন, “ও কি তাহলে একটা পার্টিশন তৈরি করে?” আয়ুষ হেসে সম্মতি জানান। ফারাহ বলেন, “তুমি তাহলে কতবার নিশ্চিত হও যে ও-তোমার ওপর রেগে আছ!” তাঁদের লিভিং রুম এতটাই বড় যে, ফারাহ রসিকতা করে বলেন, “তোমরা এখানে কি ক্রিকেট খেলো?” উত্তরে আয়ুষ বলেন, “অর্পিতার অভ্যাস বড় ঘর বানানোর, কিন্তু ব্যবহার করে কেবল তিনটা কোণ।” বাড়ির ভেতরে ব্যক্তিগত পরিসরের বিষয়টি বিশেষভাবে নজরে আসে যখন আয়ুষ দেখান তাঁর নিজস্ব ‘হিডেন রুম’। তিনি জানান, “এটা আমার রিল্যাক্স করার জায়গা, কিন্তু এখন অর্পিতা এখানে এসে বসে, সোফাটাই দখল করে ফেলেছে।” তাঁদের অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের রঙ-রূপও নজর কাড়ে। ছিমছাম ধূসর-সাদা টোনের সঙ্গে হালকা নীলের ছোঁয়া রয়েছে ঘরের বিভিন্ন অংশে। তবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় একটি দেওয়াল। ওখানে রাখা রয়েছে সলমন খান (Salman Khan)-এর আঁকা ‘আয়াতুল কুরসি’ চিত্রকর্ম। আয়ুষ বলেন, “এই পেইন্টিংটা আমার জন্য লাকি। ‘অন্তিম’ ছবির পোস্টার রিলিজের মাত্র ৩০ মিনিট আগে এটা আমাদের বাড়িতে আসে।” ফারাহ খান এই পেইন্টিংটিকে ‘সলমনের সবচেয়ে ভাল কাজ’ বলে অভিহিত করেন। আর একটা বিস্ময়ের জায়গা তাঁদের রান্নাঘর। ছয়টি এয়ার কন্ডিশনার, চারটি ফ্রিজ থাকা এই মডুলার কিচেনে আদৌ রান্না হয় না। আয়ুষ জানান, “আমরা এখানে কিচেনে কখনও রান্না করি না। আমাদের অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের রেস্তোরাঁ থেকে খাবার আনিয়ে নিই।” অর্পিতা খান জানান, তিনি এখনও মায়ের (সালমা খান – Salma Khan) রান্না ছাড়া খেতে পারেন না। “মা আমাদের সবার জন্য খাবার পাঠান। আমি, সোহেল (Sohail), আরবাজ (Arbaaz), এমনকী যখন শ্যুটিংয়ে থাকি তখনও। আয়ুষও সেই খাবার খায়।” আয়ুষ স্মৃতিচারণ করেন, “যখন আমি আর অর্পিতা শুধু বন্ধু ছিলাম, তখন আমি ওর সঙ্গে দেখা করতাম শুধুমাত্র সালমা আন্টির রান্না খাওয়ার জন্য।”
২০১৪ সালে আয়ুষ শর্মা ও অর্পিতা খানের বিয়ে হয়। তবে এক দশকের এই দাম্পত্যে তাঁদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ব্যক্তিগত পরিসরের স্পষ্ট সীমারেখা আলাদা করেই চোখে পড়ে। একই ছাদের নিচে থেকেও আলাদা ঘর ব্যবহার, কিংবা ‘মুভিং ওয়াল’-এর মতো রূপক চিহ্ন। সবই যেন তাদের সম্পর্কের পরিণত রূপেরই প্রতীক। এই ঝলমলে জীবনের আড়ালে আছে এক প্রকার ভারসাম্য। যেখানে আড়ম্বর থাকলেও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। সম্পর্কের মধ্যে স্থান পায় ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। আর সেই কারণেই হয়ত এই বাড়িটিকে আয়ুষ শর্মা বলেন, “আমার শান্তির জায়গা।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Salman Khan : ‘ভাইজান’ থেকে বিনয়ী শিল্পী সলমন খানের মুখে তাঁর সাফল্য আর সংশয়ের গল্প




