সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা, ৫ জুন: শহরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনার সঞ্চার ঘটিয়েছে সন্দীপন সাহার বাড়ির সামনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী শিবিরে। এই আবহেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে সেখানে পৌঁছন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। তাঁদের উপস্থিতি এবং মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ সূত্রে খবর, বিজেপি (BJP) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল (Priyanka Tibrewal) -এর নেতৃত্বে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ কর্মসূচী ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই কর্মসূচীর জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। একদিকে বিরোধী শিবির নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে, অন্যদিকে শাসক দলের নেতারা ঘটনাটিকে ঘিরে কড়া প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন।
ঘটনার পর দিনই সন্দীপন সাহার বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন তিনি এবং তাঁর সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিরা। কীভাবে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বিক্ষোভ চলাকালীন কী ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় বিস্তারিতভাবে জানার চেষ্টা করা হয়। প্রতিনিধিদলের তরফে পরিবারকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে তাঁরা এই ঘটনার পাশে রয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গতকালের ঘটনা গণতান্ত্রিক চর্চার পক্ষে উদ্বেগের বিষয়।’ তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পনা করে উত্তেজনা তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জানান, মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু কোনও ব্যক্তির বাড়ির সামনে গিয়ে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর কথায়, ‘প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু সেই অধিকার ব্যবহার করার সময় সীমা মানতে হয়। কারও ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ করে উত্তেজনা তৈরি করা ঠিক নয়।’ ঋতব্রত আরও বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্যে করা হলে তা সমাজে ভুল বার্তা দেয়। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলির দায়িত্ব রয়েছে যাতে আইনশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ বোধ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘রাজনীতির নামে অশান্তি সৃষ্টি করলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার প্রভাব পড়ে।’
ঘটনার জেরে আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। নিউমার্কেট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ। অভিযোগপত্রে বিক্ষোভের সময় কী কী ঘটেছে তার বিবরণ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আইনের চোখে সবাই সমান। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।’
এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসছে। একাংশ মনে করছে, এটি নিছক প্রতিবাদের অংশ, অন্যদিকে অনেকের মতে, বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক কৌশলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করা, এই পদক্ষেপকে অনেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কলকাতার রাজনীতিতে অতীতে বহুবার ব্যক্তিগত পরিসরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাটি নতুন করে সেই প্রশ্ন তুলে দিল। প্রতিবাদের ধরন, তার সীমা এবং রাজনৈতিক আচরণের নীতিমালা নিয়েই আবার আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বিজেপির তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা, খুব শীঘ্রই বিরোধী শিবির তাদের অবস্থান পরিষ্কার করবে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার। ঘটনার পর স্থানীয় স্তরেও প্রভাব পড়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতি তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া উচিত নয় বলেই মত তাঁদের। রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে এই ঘটনা যে আরও কিছুদিন আলোচনায় থাকবে, তা বলাই যায়। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদক্ষেপ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিরোধী শিবিরের প্রতিক্রিয়া, আগামী দিনে এই ইস্যু কোন দিকে এগোয়, তার দিকেই নজর থাকবে রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের।
ছবি : সংগৃহীত



