বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারত (India) ও ভুটান (Bhutan) -এর মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শুরু হতে চলেছে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ। ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে পৌঁছে যাবে ভুটানে প্রথম ট্রেন। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম অংশ পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর ভূমি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন এই রেলপথ শুধু প্রতিবেশী ভুটানের সঙ্গেই নয়, তা উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গেও ব্যবসা-বাণিজ্যের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি (Vikram Misri) সোমবার জানিয়েছেন, ভারত ও ভুটানের মধ্যে দু’টি বড় রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হতে চলেছে। এর মধ্যে একটি রেলপথ তৈরি হবে পশ্চিমবঙ্গের বানারহাট (Banarhat) থেকে ভুটানের সামৎসে (Samtse) পর্যন্ত। অন্য প্রকল্পটি হবে অসমের কোকরাঝাড় (Kokrajhar) থেকে ভুটানের গেলেফুর (Gelephu) পর্যন্ত। রেল মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, দু’টি প্রকল্পে মোট খরচ হবে প্রায় ৪০৩৩ কোটি টাকা। বাংলার অংশে থাকা বানারহাট-সামৎসে প্রকল্পের কাজ আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ।
উল্লেখ্য, গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ভুটান সফরে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সেই সময়ই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরিত হয়। এবারে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটানের বিদেশসচিব তাঁর ভারত সফরে এসে চুক্তিতে সিলমোহর দেন। কেন্দ্রের দাবি, প্রকল্প শেষ হলে দুই দেশের যোগাযোগ আরও দৃঢ় হবে এবং ভুটানের অর্থনীতি নতুন গতিপথে এগিয়ে যাবে।
কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) বলেন, “ভারত ভুটানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। ভুটানের প্রায় সব আমদানি-রফতানি ভারতীয় বন্দর দিয়েই সম্পন্ন হয়। তাই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই রেল সংযোগ অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান, নতুন এই ৮৯ কিলোমিটার রেলপথ ভুটানকে ভারতের ১,৫০,০০০ কিলোমিটার দীর্ঘ রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করবে, যা বাণিজ্যের গতি বাড়াবে বহুগুণে।
প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত অবকাঠামোগত উন্নয়নও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বানারহাট থেকে সামৎসে রেলপথে থাকবে দুটি স্টেশন। পাশাপাশি তৈরি হবে একটি বড় উড়ালপুল, ২৪টি ছোট উড়ালপুল এবং ৩৭টি ভূগর্ভস্থ পথ। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে, কোকরাঝাড় থেকে গেলেফুর রেলপথে থাকবে ছ’টি স্টেশন। সেখানে তৈরি করা হবে দুটি উঁচু সেতু, ২৯টি বড় সেতু, ৬৫টি ছোট সেতু এবং একটি উড়ালপুল। এছাড়াও ওই রুটে থাকবে দু’টি গুদামঘর। পুরো কাজ শেষ করতে সময় লাগবে চার বছর। আবার, কূটনৈতিক পর্যায়েও এই প্রকল্পকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ভারত ও ভুটানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সুদৃঢ়। তবে সরাসরি রেল যোগাযোগ না থাকায় বাণিজ্য ও যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। এবার সেই বাধা দূর হতে চলেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই রেল সংযোগ ভুটানের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড সহজ করবে। পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতেও নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতীয় রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার পর ভুটানের কৃষিজ পণ্য, শিল্পজাত দ্রব্য এবং পর্যটন ক্ষেত্র নতুন বাজার খুঁজে পাবে। বিশেষত, সীমান্তবর্তী এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। অন্যদিকে ভারতের জন্যও এই রেল সংযোগ কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য পথকে আরও গতিশীল করবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শুধু অর্থনৈতিক নয়, সাংস্কৃতিক যোগাযোগও আরও দৃঢ় হবে। সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় আসবে নতুন মাত্রা। যাতায়াত সহজ হবে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি পর্যটনের ক্ষেত্রেও এই প্রকল্পে থাকবে বিশাল সম্ভাবনা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ভারত-ভুটান সম্পর্ক বরাবরই পরস্পরের আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। এবারের রেল সংযোগ সেই বন্ধুত্বকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
ছবি: প্রতীকী
আরও পড়ুন : India own space station | PM Narendra Modi : ভারত তৈরি করবে নিজস্ব স্পেস স্টেশন, ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




