Social Media Addiction, Digital Detox: মনের শান্তি ফেরাতে চান? ‘ডিজিটাল ডিটক্স’-এ মিলবে সমাধান

SHARE:

ধীরেন মাহান্তী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দিন শেষ হোক বা দিনের শুরু, হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঘুমোতে যাওয়ার আগে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) স্ক্রল করা কিংবা ঘুম ভাঙতেই প্রথমেই ফোনের নোটিফিকেশন (Notification) চেক করা এখন প্রায় সবার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই অভ্যাস যে আমাদের মন ও শরীরকে নীরবে ক্লান্ত করে তুলছে, তা অনেকে টেরই পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটানা ডিজিটাল দুনিয়ার মধ্যে ডুবে থাকলে মনের উপর তৈরি হয় এক অদৃশ্য চাপ, যা ধীরে ধীরে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি ঘটায়। এই চাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন একটি বিশেষ অভ্যাস, ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ (Digital Detox)।

আরও পড়ুন : Mobile Game’s : মোবাইলে অনলাইন গেম খেলার অপকারিতা 

ডিজিটাল ডিটক্স আসলে কী? সাধারণভাবে বলতে গেলে, এটি এক ধরনের সচেতন প্রক্রিয়া, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত রাখা হয়। লক্ষ্য একটাই, ভার্চুয়াল জগত থেকে কিছুটা দূরে থেকে নিজের মনের সঙ্গে সময় কাটানো। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ডিজিটাল ডিটক্স আমাদের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। দিনভর অনবরত নোটিফিকেশনের শব্দ, স্ক্রলিং, লাইক-কমেন্টের দুনিয়ায় হারিয়ে যাওয়া, এসবই আমাদের মস্তিষ্ককে অবিরাম ব্যস্ত রাখে। ফলে এক সময় তৈরি হয় মানসিক ক্লান্তি। গবেষণা বলছে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার ঘুমের গুণমান কমিয়ে দেয়। শোবার আগে ফোন ব্যবহার করলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ঠিকমতো বিশ্রাম পায় না। শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের ‘পারফেক্ট’ জীবন দেখে অকারণে অনেকের মধ্যে হীনমন্যতা তৈরি হয়। এর সঙ্গে কমে যায় মনোযোগ, যা সরাসরি কাজের উৎপাদনশীলতায় প্রভাব ফেলে। মনোবিজ্ঞানী ড. অর্পিতা মুখার্জি জানিয়েছেন, “মানুষ এখন নিজের অনুভূতিকে লুকিয়ে রাখতে সোশ্যাল মিডিয়ার আশ্রয় নেয়। অথচ অফলাইনে কিছু সময় কাটানোই আসল মানসিক শান্তি দিতে পারে।”

ডিজিটাল ডিটক্স শুনতে কঠিন মনে হলেও আসলে এটি ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমেই সম্ভব। যেমন :
১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে মাত্র ফোন চেক করুন।
২. শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন একেবারেই ব্যবহার করবেন না।
৩. বাড়ির ভেতরে একটি ফোন-মুক্ত কর্নার তৈরি করুন, যেখানে বিশ্রামের সময় ফোন রাখা যাবে না।
৩. সপ্তাহে অন্তত একদিন সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রি ডে পালন করুন।
৪. ফোনে সময় কাটানোর পরিবর্তে বই পড়া, গান শোনা বা হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
মনোবিদ স্নিগ্ধা দত্ত বলেন, “প্রথমে হয়ত অস্বস্তি লাগবে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই আপনি বুঝবেন, বাস্তব জগতে থেকেও কতটা আনন্দ পাওয়া যায়।”

মনের শান্তি মিলবে কোথায়
ডিজিটাল ডিটক্স মানেই শুধু ফোন থেকে দূরে থাকা নয়। আসল উদ্দেশ্য হল, নিজের সঙ্গে সময় কাটানো। প্রকৃতির সান্নিধ্য, নীরবতা, সঙ্গীত বা ধ্যান, এই সমস্ত মাধ্যম আমাদের মনের গভীরে জমে থাকা ক্লান্তিকে দূর করে দেয়। যখন মানুষ নিজের ভেতরে শান্তি খুঁজে নিতে শিখবে, তখন আর অনবরত স্ক্রল করার প্রয়োজন হবে না।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফলাইনে থাকা কখনও কখনও বিলাসিতা নয়, বরং একান্ত প্রয়োজন। কারণ আসল ‘লাক্সারি’ (Luxury) হল মনের শান্তি, যা ভার্চুয়াল দুনিয়া কখনও দিতে পারে না। প্রসঙ্গত, আজকের দৌড়ঝাঁপের জীবনে তাই ডিজিটাল ডিটক্স শুধু একটি বিকল্প নয়, বরং এক অপরিহার্য অভ্যাস। সময় এসেছে সবাইকে বুঝে নেওয়ার যে, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করছে ঠিকই, তবে তার সঠিক ব্যবহার না জানলে সেটিই একসময় বড় চাপ হয়ে উঠতে পারে।

-প্রতীকী চিত্র 

আরও পড়ুন : Mobile Recharge Cost in India | মোবাইল রিচার্জের বাড়তি চাপ: সংকটে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার, জরুরি পদক্ষেপের দাবি

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন