Divya Deshmukh, Women’s Chess World Cup 2025 | ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ দিব্যা দেশমুখের হাতে

SHARE:

১৯ বছরের দিব্যা দেশমুখ ফিদে মহিলা দাবা বিশ্বকাপে র‍্যাপিড টাইব্রেকারে কনেরু হাম্পিকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেন। ভারতীয় দাবায় নতুন ইতিহাস।

শুভ্রাংশু চন্দ ★ সাশ্রয় নিউজ, কলকাতা: ইতিহাস লেখা হয়ে গেল। ফিদে মহিলা বিশ্বকাপে চূড়ান্ত নাটকীয়তায় জন্ম দিলেন ১৯ বছরের দিব্যা দেশমুখ (Divya Deshmukh)। বয়সে তরুণ, অভিজ্ঞতায় কম, কিন্তু সাহস, কৌশল আর আত্মবিশ্বাসে তিনি হার মানালেন ভারতীয় দাবার অন্যতম কিংবদন্তী, ৩৮ বছর বয়সি কনেরু হাম্পিকে (Koneru Humpy)। র‍্যাপিড টাইব্রেকারে হাম্পিকে পরাজিত করে দিব্যা হলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

দিব্যা দেশমুখ ও কনেরু হাম্পি। ছবি : সংগৃহীত

দুই রাউন্ডের ক্লাসিক গেমে কোনও পক্ষই জয়ের মুখ দেখেননি। টাইব্রেকারেই নির্ধারিত হল বিজয়ী। যেখানে অভিজ্ঞতা, সময়জ্ঞান, এবং মানসিক স্থৈর্য্য, সব কিছু পরীক্ষার মুখে পড়ে। সেখানেই বাজিমাত করলেন দিব্যা। প্রথম র‍্যাপিড গেমে সাদা ঘুঁটি নিয়ে চাল খেলেন অত্যন্ত ধৈর্য্য সহকারে। ফলাফল: এক শক্তিশালী ড্র। দ্বিতীয় গেমে কালো ঘুঁটি নিয়ে মাঠে নামেন দিব্যা, যেখানে প্রতিপক্ষ হাম্পি একাধিক ভুল করে বসেন। আর সেই ভুলই প্রমাণ করে দেয়, বয়স নয়, মুহূর্তের চাপ সামলানোর ক্ষমতাই বড়ো। দিব্যার স্ট্র্যাটেজি ছিল সরল কিন্তু কার্যকর, হাম্পিকে তাঁর নিজের তৈরি ফাঁদেই ফেলে দেওয়া। যে কৌশলে বহু আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার নাস্তানাবুদ হয়েছেন, এবার সেই জালে জড়ালেন হাম্পি। বিশ্লেষকরা বলছেন, “চাপের মুখে যেভাবে দিব্যা মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলেছেন, তা শুধু দক্ষতা নয়, এক অনন্য মানসিক দৃঢ়তার নিদর্শন।”

Divya Deshmukh
দাবায় বিশ্বকাপজয়ী দিব্যা দেশমুখ। ছবি : সংগৃহীত

দিব্যা এই বিশ্বকাপে প্রবেশ করেছিলেন ১৮ নম্বর বাছাই হিসেবে। কেউই তাঁকে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট তো দূরের কথা, দ্বিতীয় রাউন্ড পর্যন্তও ভাবেননি। কিন্তু একের পর এক তারকাকে হারিয়ে উঠে এসেছেন শীর্ষে। প্রাক-ফাইনালে তাঁকে নিয়ে যতটা প্রশ্ন ছিল, ফাইনালের পর ততটাই জবাব স্পষ্ট: ভারতীয় দাবার নতুন তারকা জন্ম নিয়েছে।

দিব্যা দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ জয়ের ফলে দিব্যা শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নের খেতাবই পেলেন না, সঙ্গে পেলেন গ্র্যান্ডমাস্টার (Grandmaster Norm) নর্ম-ও। ফলে আন্তর্জাতিক দাবার অগ্রগতির পথে তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। তাঁর এই জয় ভারতের ক্রীড়াজগতে অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। সাফল্যের পরে কান্নায় ভেঙে পড়া দিব্যার চোখের জল যেন একান্ত ব্যক্তিগত বিজয়ের গল্পও বলে দিল। হাজারো প্রতিকূলতা, দীর্ঘ প্রস্তুতি, এবং অবিশ্বাস্য পরিশ্রমের ফল এই মুহূর্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই দিব্যার প্রশংসায় ভাসছেন ক্রীড়াবিদ, বিশিষ্ট জনেরা। বিশিষ্ট গ্র্যান্ডমাস্টার বিষ্ণু প্রসন্ন (Viswanathan Anand)-ও লিখেছেন, “দারুণ খেলেছে মেয়েটা। আত্মবিশ্বাস, স্কিল আর কৌশলের অপূর্ব সংমিশ্রণ।”

দিব্যা দেশমুখ। ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় দাবার নতুন যুগ শুরু করলেন দিব্যা দেশমুখ। প্রজ্ঞানন্দ (Praggnanandhaa), গুকেশ (Gukesh) এই তরুণ দাবাড়ুরা যে ভারতের দাবা মানচিত্রে আন্তর্জাতিকভাবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছেন, তার অন্যতম মুখ হয়ে রইলেন দিব্যা। তাঁর এই জয় পরবর্তী প্রজন্মের মেয়েদের দাবার দিকে আকৃষ্ট করবে বলেই মত ক্রীড়াবিশ্লেষকদের। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দিব্যার চোখে ছিল আনন্দ, তৃপ্তি আর দৃঢ় সংকল্পের ছায়া। চোখের জল ছিল না দুঃখের, বরং ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকার উপলব্ধি।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Divya Deshmukh World Chess Cup Final | ইতিহাস গড়েও খুশি নন দিব্যা দেশমুখ! বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে দিব্যা একটাই চাওয়া, ঘুম আর পেট ভরে খাওয়া

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন