Modi Starmer Education Agreement | ভারতে গড়ে উঠছে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস: শিক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা মোদী-স্টার্মার বৈঠকে

SHARE:

বিনীত শর্মা, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বহু প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে পৌঁছাল ভারত ও যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer)–এর মধ্যেকার সাম্প্রতিক বৈঠকে উঠে এল ঐতিহাসিক কিছু প্রস্তাব, যা ভারতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দুই দেশের এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফসল হিসেবে শুধু অর্থনৈতিক নয়, শিক্ষা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও তৈরি হতে চলেছে এক নতুন অধ্যায়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চার দিনের সফরের তৃতীয় দিনে আলোচনার মূল ফোকাস ছিল বাণিজ্য ও শিক্ষা। এই আলোচনার ফসল হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়েছে একাধিক চুক্তি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, খুব শীঘ্রই ভারতে আরও ছয়টি ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয় (British Universities) ক্যাম্পাস গড়ে তোলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গুরুগ্রামে (Gurugram) দক্ষিণ ইংল্যান্ডের সাউথঅ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় (University of Southampton) তার ভারতীয় ক্যাম্পাস চালু করেছে। সেই উদাহরণকে সামনে রেখেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানকে ভারতীয় মাটিতে আনতে অনুরোধ জানান।এই উদ্যোগে লাভবান হবেন সরাসরি দেশের পড়ুয়ারা। কারণ, এতদিন যাঁরা লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ইউকে (UK)-র বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেন, তাঁদের জন্য এবার দেশে বসেই সেই মানের শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, “এই সিদ্ধান্ত ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিপ্লব এনে দেবে।”

শুধু শিক্ষা নয়, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানির খরচ কমবে, বাড়বে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা। মোদী বলেন, “মুক্ত বাণিজ্যের পরিকাঠামো গড়ে তুললে ভারত ও যুক্তরাজ্য, উভয় দেশই লাভবান হবে। এর ফলে আরও বেশি ব্রিটিশ পণ্য সহজে ভারতের বাজারে প্রবেশ করবে, একইসঙ্গে ভারতীয় শিল্পপতিদের জন্য ইউকে-র বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।” ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টার্মারও মোদীর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক, কৌশলগত ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আগামী দশকে আরও গভীর হবে।”

দু’দেশের মধ্যে এই বন্ধুত্বপূর্ণ চুক্তির ফলে ইউরোপের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে ব্রিটেনই প্রথম, যারা ভারতীয় মাটিতে পরপর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। নিউ দিল্লি সূত্রে খবর, আগামী তিন বছরের মধ্যে কলকাতা, বেঙ্গালুরু, মুম্বই, চেন্নাই, হায়দরাবাদ ও পুনে এই ছয়টি শহরে চালু হবে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন আন্তর্জাতিক মানের পাঠক্রম পাবেন, তেমনই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও ভারতীয় মেধা ও বাজারকে কাজে লাগাতে পারবে। তাছাড়া, বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পড়ুয়াদের সংখ্যা এবং তাঁদের সাফল্য ইউরোপীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন আশা জুগিয়েছে বলেই মত ব্রিটিশ শিক্ষাবিদদের।
কূটনৈতিকদের মতে, মোদীর এই কৌশলগত পদক্ষেপ ভারতীয় শিক্ষা ও অর্থনীতিকে বিশ্বমঞ্চে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। একজন শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, “এটি শুধু একটি দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং ভারতের মেধাকে দেশে ধরে রাখার একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশল।”

একদিকে যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে শুরু হওয়া ‘শুল্ক-যুদ্ধ’-এর পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল, সেখানে এই নতুন বাণিজ্য ও শিক্ষা চুক্তি একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে, ভারত বিশ্বজনীন শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠতে চলেছে। এই চুক্তি শুধু দু’টি দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করল না, শিক্ষাক্ষেত্রে সম্ভাবনার এক নতুন দরজাও খুলে দিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।

ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi BRICS Summit 2025 | বিশ্ব স্বাস্থ্য আর পরিবেশ সুরক্ষায় একসঙ্গে চলতে হবে: ব্রিকস মঞ্চে মোদীর বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

Leave a Comment

আরো পড়ুন